Contents Foreign Movie Review

অ্যালিস (১৯৮৮)- অ্যালিসের যে ওয়ান্ডারল্যান্ডে অদ্ভুতুড়ে স্বপ্নরা ডানা ঝাপটায় আর ভয়ের আভাস দেয়।

Alice (1988)- চেকোস্লোভাকিয়া

– ডার্ক ফ্যান্টাসি, সুরিয়াল, স্টপ-মোশন

 

– ‘লুইস ক্যারল’-এর বিখ্যাত শিশুসাহিত্য “অ্যালিস’স এডভেঞ্চার ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড”-এর এই সুরিয়াল সংযোজন ঘটান চেকোস্লোভাকিয়ান ফিল্মমেকার “ইয়ান শাঙ্কমায়ের।” বইয়ের আনন্দঘন, মাতাল করা কল্পকথার ছাঁচ’টা পুরোপুরি ছুঁড়ে ফেলে, একটি শিশুর চিন্তাভাবনার অন্ধকার দিকটিতে আলো ফেলেছে শাঙ্কমায়েরের ‘অ্যালিস’।

 

সিনেমার প্রথম দৃশ্য থেকেই ক্যারলের “অ্যালিস’স এডভেঞ্চার ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড”-এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা সেই কড়া মিষ্টি স্বাদ নেওয়া থেকে দর্শককে দূরে রেখেছেন শাঙ্কমায়ের। নেচে-গেয়ে ওঠা কোন ফুল, কালারফুল দৃশ্য, ভিক্টোরিয়া আমলের পোশাক গায়ে চড়িয়ে হাসি-হাসি মুখ করে থাকা খোরগোশ- কিছুই এই সিনেমায় নেই। এখানে, ওই সাদা খরগোশটি তার দু’ পায়ের পেরেক খুলে একটি টেক্সিডের্মিস্ট ডিসপ্লে কেস ভেঙে বেরিয়ে যায়। এখানে, ব্লিচ করে রাখা দৈত্যাকার প্রাণীমস্তকগুলো নিষ্পলক চোখজোড়া আর খটখট শব্দ তোলা দাঁতকপাটি নিয়ে এদিক ওদিক হুড়োহুড়ি করে বেড়ায়। ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’ এখানে কোন কল্পকথার রাজ্য নয়, ভীতি জড়িয়ে থাকা স্বপ্ন।







ক্যারলের এই বইয়ের অন্যান্য চলচ্চিত্রায়িত রূপের গ্রাম্যঞ্চলের সেই মনোহর ল্যান্ডস্কেপ ধারণ করার বিষয়টি একদমই এড়িয়ে গেছেন, শাঙ্কমায়ের। অদ্ভুতুড়ে সব করিডোরের সাথে সংযুক্ত ছোট ছোট কক্ষে অর্থাৎ একদমই বদ্ধ পরিবেশে গোটা সিনেমা’টি ধারণ করেছেন তিনি। স্থানগত এবং সময়গত কোন পার্থক্য মেনে চলেন নি, শাঙ্কমায়ের। খরগোশের ছুটে চলার প্রথম সেই দৃশ্যটিই ধরা যাক। খরগোশের পায়ের ক্লোজ আপ শটে; তার পা দুটো মসৃণ কাঠের ভূমি হতে খাঁজকাটা অনুর্বর ভূমিতে দৌড়ে বেড়িয়ে হারিয়ে যায় একটি টেবিলের ড্রয়ারের ভিতরে ঢুকে। তাকে অনুসরণ করে অ্যালিস ও হারিয়ে যায় সামান্য এক ড্রয়ারের ভেতরের অতলপুরীতে,- ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্যকে ‘ইন্টারকাট’ করে জোড়া লাগানো হয়েছে অ্যালিসের প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্রে রেখে। এখানে, এই দুটো স্থানের মাঝে দুরুত্ব বা সময়ের পার্থক্য নিয়ে কোন পূর্বনির্দেশনাই শাঙ্কমায়ের দেন নি। একটা নির্দিষ্ট অবস্থা হতে যেন ঝাঁকুনি দিয়ে দর্শকের সৎবিৎ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন তিনি। এবং এই কৌশল গোটা সিনেমায় বারংবার শাঙ্কমায়ের ব্যবহার করেছেন। ‘তুমি সিনেমা দেখছ’- এমনটাই যেন বারবার দর্শককে মনে করিয়ে দিতে চাইছেন তিনি। এবং কোন প্রকার আবহসঙ্গীত ব্যবহার ছাড়া, সবকটি সংলাপ অ্যালিসের ভয়েসওভার টোন ব্যবহার করে প্রদান করিয়ে, স্টপ মোশন অ্যানিমেশন ব্যবহার করে ওই ভাবনার পিঠেই বারবার আঘাত করেছেন শাঙ্কমায়ের।




সুরিয়ালিজম, ড্রীম লজিক আর কল্পকথার অদ্ভুত সংমিশ্রণ শাঙ্কমায়েরের “অ্যালিস।” ক্যারলের ‘অ্যালিস’স এডভেঞ্চার ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’কে সাধারণ রপকথার গল্প হিসেবে বিচার করা নিয়ে শাঙ্কমায়েরের অভিযোগ ছিল। তিনি এটিকে দেখেন “শিশুসুলভ স্বপ্ন” হিসেবে। শেষ অব্দি অভিযোগ ঘুচিয়ে দিয়েছেন নিজেই। শাঙ্কমায়ের ভয়কে দিয়েছেন জাগতিক রূপ, স্বপ্ন এবং দুঃস্বপ্নকে করেছেন অ্যানিমেট। ‘ছোটদের সিনেমা’- এমন বিশেষণ গায়ে জড়ানোর কোন সুযোগই তাঁর “অ্যালিস”-কে দেন নি শাঙ্কমায়ের।




শাঙ্কমায়েরের এক্সট্রিম ক্লোজ আপ, অবিরত মোশন আর নিখুঁত অ্যানিমেশনে ভিজ্যুয়ালি এই সিনেমা এতটাই ‘সচল’ হয়ে উঠে যে, প্রতীকের জীবন্ত হওয়ার অদ্ভুত সেই দুনিয়া সম্পর্কে খুব বেশি ভাবতে যায় না দর্শক। কারণ, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের আগে দুই দশক ধরে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করে শাঙ্কমায়ের, তাঁর এই ‘ক্রাফট’-ই যে নিখুঁত করে তুলেছেন। শাঙ্কমায়ের অ্যানিমেশন তৈরির কৌশলে বা বিভ্রম তৈরিতে উৎসাহী নন। প্রতিদিনকার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবজেক্টে প্রাণ আনাতেই বরং তাঁর উৎসাহ। তাঁর মতে, ” সুরিয়ালিজমের অস্তিত্ব বাস্তবেই, বাস্তবের পাড় ঘেঁষে নয়।”

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *