Contents Foreign Review

” আপ দ্যা ইয়াংযে ” (২০০৭)- ইয়াংযে নদীপাড়ের লাখো দীর্ঘশ্বাসের গল্প !

” Up The Yangtze ” (2007)- চাইনিজ/কানাডিয়ান

– ডকুমেন্টারি­

– চাইনিজ-কানাডিয়ান পরিচালক ইয়ুং চ্যাং এর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি ” আপ দ্যা ইয়াংযে।  এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ নদী ‘ইয়াংযে’র চিত্র তুলে ধরে এই ডকুমেন্টারি, যেটি অবস্থিত চায়নার হুবেইয়ে। এই ইয়াংযে নদীর পাশেই তৈরি হচ্ছে থ্রি জর্জেস ড্যাম। থ্রি জর্জেস ড্যাম কিভাবে ইয়াংযে নদীর আশেপাশের জনবসতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, জীবন যাপনকে আরো বেশি দুঃসাধ্য করে তুলেছে তা এই ডকুর প্রাথমিক বক্তব্য। মূলত, এই নদী তীরবর্তী একটি হতদরিদ্র পরিবারের দুর্দশার চিত্র বয়ান করে, আপ দ্যা ইয়াংযে। এই পরিবারের কঠোর সংগ্রামী চিত্র দিয়েই নদীপাড়ের বাকি অজস্র মানুষের একই দুর্দশার গল্পকে সমরেখায় টানে।  পাশাপাশি সেই পরিবারের বড় মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা, আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলোতে ভর করে আরো গভীর সব বক্তব্যকে ধীরে ধীরে প্রকাশ করে আপ দ্যা ইয়াংযে। চায়নার গ্রাম্য অঞ্চলের কৃষকদের ঐতিহ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান, সংগ্রামী জীবনধারা নিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গীর পাশাপাশি এর পিঠে চীনের; উন্নতির দোহাই দিয়ে ক্রমাগত পুঁজিবাদী ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়া, শ্রেণী বৈষম্যের মত সিরিয়াস বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গীর প্রকাশ ঘটেছে পরিচালক ইয়ুং চ্যাং এর বয়ান ধরণে। গ্রাম্য আর নগর জীবনের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক তুলে ধরার ক্ষেত্রে তরুণী ইয়ু সুই আর তরুণ চেন বো ইয়ু – এই দুটি চরিত্রকে বেশ বুদ্ধিমত্তার সাথে উপস্থাপন করেছেন ইয়ুং চ্যাং। সংলাপ যে-কটিই ছিল তা আবেগপূর্ণ এবং বিদ্রুপাত্মক ও বটে।

এই ডকুমেন্টারি ঠিক পরিসংখ্যান’কে নয় বরং দুর্দশা’কেই তুলে ধরতে চেয়েছে। এবং উন্নতির উদাহারণ মাথায় বহন করা এই বাঁধগুলো পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলছে আলোচনা পুরোপুরি সে-বিষয়ে না রেখে, ঐতিহ্য/সংস্কৃতিতে কতটা প্রভাব ফেলছে তাতেই ইয়ুং চ্যাং তার ক্যামেরাকে ‘দলিল’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। চায়নার বেগবান আধুনিকীকরণ’কে রূপকতায় প্রকাশ করেছেন। ‘আপ দ্যা ইয়াংযে’র সকল বিষয়াদি, বক্তব্যকে পাশে রেখেই বলতে হয় ” ভিজ্যুয়ালি স্টানিং ” একটি ডকুমেন্টারি। ইয়াংযে নদীর সৌন্দর্যকে ফুল শটগুলোতে এতটা চমৎকারিত্বের সাথে তুলে এনেছে যে সম্মোহিত হতে হয়। এবং এই সম্মোহনী ক্ষমতা অর্জনে ন্যাচারাল লাইটিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ডকুমেন্টারি’টির প্রারম্ভিক দৃশ্যেই এক্সট্রিম লো-অ্যাঙ্গেল শট থেকে ক্যামেরা প্যান করার মুহূর্তটি দারুণ ছিল। ডকুমেন্টারিতে উচ্চবিলাসী তরুণ চেন বো ইয়ু’র আধিপত্য বিস্তারকারী মনোভাব তুলে ধরতে লো-অ্যাঙ্গেল শটের ভালো ব্যবহার করেছেন ইয়ুং চ্যাং। দর্শকের মাঝে আবেগ জাগাতে ক্যামেরাকে চরিত্রদের কাছাকাছি রেখেছেন তিনি। আবার মাঝে মাঝে মনে হয়েছে, নদীপাড়ের মানুষদের ভাসমান জীবনধারা দেখাতে ক্যামেরাকেও ভাসমান রেখেছেন যেন তিনি। ন্যারেটিভকে যথেষ্ট বিস্তৃত করেছেন ইয়ুং চ্যাং। তবে সম্পাদনায় ও একটু দেখার দরকার ছিল। ” কিছুটা দীর্ঘ হয়ে গেছে “- এমন মন্তব্য অযাচিত নয়। চৈনিক সংস্কৃতির দিকটি তুলে ধরতে গিয়ে টোনাল অ্যাক্টে থেকে থেকে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছিলেন। সেকারণে দর্শকমনে কিছুটা ক্লেশের ভাব জাগা অস্বাভাবিক নয়। তবে, বলাই বাহুল্য, ‘আপ দ্যা ইয়াংযে’ একটি মনোহর সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা।

সর্বোপরি; ‘আপ দ্যা ইয়াংযে’কে বলা যায়- মানুষ, প্রকৃতি, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বদলে ঐতিহ্য বিসর্জনের স্মারকলিপি। (বিসর্জন’টা এখানে শুধু দৃশ্যত বাস্তবের নয়, ভেতরের আত্মার ও বটে।)

You may also like...

Leave a Reply