Contents English Movie Review

আস (২০১৯)- জরডান পিয়েলে তার স্বকীয়তার প্রমাণ দিলেন আরো একবার।

” US ” (2019)

– হরর, মিস্ট্রি, থ্রিলার

– We’re Americans !

ক্ষুদ্র এই সংলাপটি অত্যন্ত সাধারণ ঠেকলেও “আস” সিনেমার ওই মুহূর্তে, ওই আমেজটায় এই ক্ষুদ্র সংলাপটিই গোটা সিনেমার সারমর্ম দাঁড় করায়। সাবটেক্সটের বক্তব্য পরিষ্কার করে দেয়, কড়া বিদ্রুপের বেশে।

‘জর্ডান পিয়েলে’র দ্বিতীয় সিনেমা “আস”, ‘গেট আউটের’ তুলনায় কতটা ভালো/মন্দ সে পরের আলোচনা। তবে গেট আউট হতে আস বেশি ইন্টেলেকচুয়াল এটুকু পরিষ্কার বলা যায়। গেট আউটের মতো-ই আমেরিকান সমাজের বর্তমান হালহকিকত সম্বন্ধিত বক্তব্যের সিনেমা আস। প্রচুর বিব্লিক্যাল রূপক রয়েছে। এবং সিনেমার বিব্লিক্যাল রূপকের দিকটি নিয়ে মাথা ঘামানোর যথেষ্ট কারণ ও আছে। সিনেমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি টার্ণের আগে “জেরেমায়াহ্’র ১১ নাম্বার চ্যাপ্টারের ১১ তম স্তবকের” একটি নির্দিষ্ট লাইন ভেসে উঠে। ততারই পিঠে স্বর্গ-নরকের রূপক-ও খুঁজে পাওয়া যায় ‘আস’-এর সাবটেক্সটে।

 

প্রারম্ভিক দৃশ্যে খানিক’টা হররের আমেজে শুরু হয়ে, ‘আস’ অনেকটা ফ্যামিলি ড্রামা হিসেবেই তার সেটিং ঠিক করে, যেখানে দেখা যায়, অ্যাডেলেইড উইলসন তার স্বামী এবং দুই ছেলে-মেয়েকে ছুটি উদযাপন করতে তার ছেলেবেলায় বেড়ে উঠা বীচ সংলগ্ন সেই বাড়িতে আসে। জেনেরিক্যালি, বাড়িকে ঘিরে তার কিছু দুঃসহ ঘটনা রয়েছে, যার কারণে বাড়িতে পা রাখার পরই অ্যাডেলেইড তার স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে না। কিছু দেখে সে, কিছুর উপস্থিতি অনুভূত করে। তবে জেনেরিকে টার্ন’টা তখনই ঘটে যখন বাড়ির ভেতরে লাল পোশাক পরিহিত একটি পরিবার ঢুকে পড়ে এবং তারা দেখতে পুরোপুরি অ্যাডেলেইড এবং অ্যাডেলেইডের স্বামী, বাচ্চাকাচ্চার মতোই। গল্পের এ পর্যায় থেকে হোম-ইনভ্যাশন হররের আবহ’তে চলতে থাকে ‘আস’।

 

‘আস’ তার সাবটেক্সটের বক্তব্যে আমেরিকান অধিকার, শ্রেণীচেতনা নিয়ে কথা বলে। এবং ‘আসল’ কিশোরীকে অপহরণ করে তার জায়গা নিয়ে নিজস্বতা ভুলে যাওয়ার বিষয়টিতে, সমৃদ্ধি কীভাবে মনে আত্মতৃপ্তি জুগিয়ে অন্যদের এবং নিজের স্বকীয়তাকে ভুলিয়ে দেয়- তা নিয়ে দারুণ বক্তব্য রেখেছে। আশির দশকের আমেরিকার অনেক সাংস্কৃতিক রেফারেন্স রয়েছে ‘আস’ এ। সেদিক থেকে এই সিনেমাকে ধরা যেতে পারে পুঁজিবাদী আমেরিকার প্রতি ‘ওয়েইক-আপ কল’ হিসেবে।

 

‘আস’, তার ভেতরের বক্তব্য প্রলম্বিত করতে আশির দশকের আমেরিকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক রেফারেন্স যেমন নিয়েছে, তেমনি পৃষ্ঠতলের হরর গল্প এগিয়ে নিতে আশির দশকের বিভিন্ন ক্ল্যাসিক হরর সিনেমার রেফারেন্স এবং বিখ্যাত পরিচালকদের স্টাইলের সাযুজ্য ঘটিয়েছে। ‘গেট আউট’ এর মতোই জর্ডান পিয়েলে এই সিনেমায়-ও সেসব সিনেমার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন যেসব সিনেমা তাকে ‘আস’ বানাতে উদ্ধুদ্ধ করেছে। হিচককিয়ান সাসপেন্স লক্ষ্য করা যায়, ‘আস’-এ সাসপেন্স বজায় রাখার ক্ষেত্রে। আবার ক্রোনেনবার্গ এর বডি-হররের আঁচ পাওয়া যায়। তবে ” আস ” সবচেয়ে বেশি ট্রিবিউট দিয়েছে কিংবা প্রাসঙ্গিক বক্তব্যে ও নান্দনিকতায় সর্বাপেক্ষা বেশি অনুসরণ করেছে ‘দ্যা শাইনিং’কে। ওভারহেড শটে, সিনেমাটোগ্রাফিতে একটা আর্কিটেকচারাল ভাইব রাখাতে কিংবা অস্ত্র নিয়ে ন্যং’ও(ইয়্যং’ও) এর ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্যতে (সাদৃশ্য স্থাপন করা যায়, ‘দ্যা শাইনিং’ এ নিকলসনের কুড়াল নিয়ে পাগলের মত ছুটে বেড়ানোর সেই দৃশ্যটার সাথে), ‘দ্যা শাইনিং’ এর-ই প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। তবে পিয়েলে ‘দ্যা শাইনিং’য়ে-ই থিতু হন নি। অ্যাডেলেইড এবং তার ডপলগ্যাংগার’কে এক ফ্রেমে বন্দি করতে “ব্রায়ান দে পালমা “-র বিখ্যাত স্প্লিট ডায়োপ্টার শটের ব্যবহার করেছেন পিয়েলে। এছাড়াও ব্যালে ড্যান্সের দৃশ্যের সাদৃশ্য স্থাপন করা যেতে পারে আরোনো্ফস্কি’র “ব্ল্যাক স্যোয়ান” এর সাথে। আর ব্যাকলাইট ব্যবহার করে ‘আস’ এর আনসেটলিং এইসব ইমেজারি তৈরি করতে সিনেমাটোগ্রাফার মাইক গিওলাকিসের সফল প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতে হয়।










Scene of Ballet Dance

জর্ডান পিয়েলে’র দক্ষ গল্পবয়ানের সাথে নিখুঁত কাস্টিং এই সিনেমাকে আরো অভিঘাতী করে তুলেছে। দ্বৈতচরিত্রে লুপিতা ইয়্যংও’র শ্বাসরুদ্ধকর অভিনয় ‘আস’কে রীতিমতো তার সিনেমা-ই করে তুলেছে। অ্যাডেলেইড চরিত্রে তার প্রতিটি অভিব্যক্তি যেমন বিশুদ্ধ আবেগকে মূর্ত করেছে আবার রেড চরিত্রে তার টুইস্টিং শারীরি ভঙ্গীমা অনেকটা ‘বুটোহ্’ ড্যান্সের কাছাকাছি একটা রূপ দাঁড় করায়।




Doppelgänger Red (Lupita Nyong’o) and Adelaide Wilson (Lupita Nyong’o) in Us

একইসাথে আমুদে এবং আন-নার্ভিং ভিজ্যুয়াল স্টাইলের সাথে (যা পিয়েলের একদমই স্বকীয় স্টাইল) হরর, কমেডি এবং সাহসী সামাজিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মিশেল ঘটিয়ে পরিপূর্ণ এক রূপ স্থাপনে আবারো সফল জর্ডান পিয়েলে (গেট আউটের পর)। সিনেমা শেষেও আমেরিকানা এবং হিউম্যান কন্ডিশনের অন্ধকার দিকটি নিয়ে ভাবার মত উপাদান রেখে গেছে ‘আস’। (আমেরিকানা’র ব্যাপারটি সর্বজনীন দর্শকের কাছে যতটা অনুনাদী হয়ে ধরা দেওয়ার কথা, স্বভাবতই ততটা না হলেও, সূক্ষ্ম মানবিক আবেদন অনুনাদ তুলবে দর্শকের মনে।) এবং অনেক উপায়ে সিনেমা’টিকে বিশ্লেষণের পথ খোলা রেখে গেছে। সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যই দ্বৈত অর্থ বহন করে। দর্শকের একাধিকবার দেখার অভিজ্ঞতাকে শুধুমাত্র ‘দেখা’র মাঝেই সীমাবদ্ধ না রাখার প্রত্যয় নিয়েই ইতি টেনেছে, আস।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *