Analysis Bangladeshi TV Show Review

ঈদের সেরা ১০ নাটক

যেকোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে সরব হয়ে উঠে আমাদের নাট্য আর চলচ্চিত্র জগতটা। আর ঈদ তো আমাদের প্রধান উৎসব, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে হইচই হবে না এটা কি হয়? একারণেই তো প্রতি ঈদকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয় অনেক অনেক নাটক-টেলিফিল্ম। এই সংখ্যাটাও অবাক করে দেয়ার মতো- ৩০০+! প্রতি ঈদের মতো এই ঈদেও নির্মাণ করা হয়েছে শ’খানেক নাটক।

তবে গত ঈদের সাথে এবারের ঈদে নির্মিত নাটকগুলোর প্রধান পার্থক্য হল- গত ঈদে রোমান্টিক নাটকের আধিক্য থাকলেও এবার বেশিরভাগ নাটক নির্মাণ করা হয়েছে জীবন-ঘনিষ্ঠ গল্প থেকে, যে গল্পের কোনো পাতায় হয়তো একটা চরিত্র আপনি নিজেই। 

এবং প্রতিবারের মতো এবারো ফিল্মকাস্ট থেকে নির্বাচন করা হয়েছে সেরা ১০টি নাটক এবং আলোচনার শীর্ষে থাকা আরও কিছু নাটককে। 

 


১. আমাদের সমাজ বিজ্ঞান

আমাদের সমাজের বিজ্ঞানটা অনেক আগের থেকেই একদম বাঁধা-ধরা, যেখানে মুক্ত চিন্তার কোনো অবকাশ নেই, যেখানে বাঁচতে হয় অন্যরা কী বলবে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে করে। পারিবারিক শেকলের নির্মমতার সাথে সাথে গত কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এখানে, যেমন: ছেলেধরা, ধর্ষণ, ডেঙ্গু ইত্যাদি।

এই সমাজের বিষ বাতাসে কীভাবে নিঃশেষ হয়ে যেতে হয় সেটা অসাধারণ ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে শাফায়েত মনসুর রানার ‘আমাদের সমাজ বিজ্ঞান’ এদেখতে দেখতে কোনো এক সময় স্ক্রিনে আপনি হয়তো নিজেকেই দেখবেন, আর এখানেই পরিচালকের সাফল্য। অভিনয়ে আছেন ইয়াশ রোহান, ফখরুল বাশার, মিলি বাশার, তারিক আনাম খান, তানজিকা আমিন, তানিয়া আহমেদ সহ আরও অনেকে।

 







২. এই শহরে

ব্যস্ত এই শহরে অনেকের জীবন যাপিত হয় একটু ভিন্নভাবে, অপরাধের মাধ্যমে। অপরাধ কখনো কেউ একা করে, কেউ কাউকে নিয়ে করে। নির্মাতা আশফাক নিপুন এই শহরের একটি গল্প বলেছেন একটি অপরাধী পরিবারের মাধ্যমে। স্ত্রী হাসপাতালের নার্স। হাসপাতালে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া বাচ্চাকে সে চুরি করে এনে দেয় স্বামীর হাতে। স্বামী তুলে দেয় দালালের হাতে। আর দালাল তুলে দেয় বিভিন্ন পার্টির হাতে।

ঘটনাক্রমে একটি বাচ্চাকে কয়েকদিনের জন্য নিজের কাছে রাখতে হয় আর তখনই মাতৃত্ববোধের কাছে গ্রাস হয়ে যায় অপরাধ করার ইচ্ছে যার শেষটা দেখে চমকে উঠবেন। আশফাক নিপুনের পরিচালনায় ‘এই শহরে’ নাটকে নিজের সেরাটা দিয়েছেন মেহজাবিন চৌধুরী আর আফরান নিশো।

 




৩. কিংকর্তব্যবিমূঢ়

এক যাদুকর তার যাদুর খালি বাক্সে যাদু দিয়ে আপেল, কবুতর এগুলো আনত। হঠাৎ করেই একদিন তার যাদুর বাক্সে একটি ছোট্ট মেয়েকে আবিষ্কার করে। সবাই তার এই যাদুর প্রশংসা শুরু করে, ভালোলাগা তৈরি হয় সেই যাদুকরের মনে। তবে আস্তে আস্তে মিথ্যে ভালোলাগাটা যেন যাদুকরের মনে বিদ্রোহ শুরু করে দেয়। এভাবে শুরু হয় ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ এর গল্প।

ছবিয়াল পরিবারের অন্যতম সেরা নির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমি ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ দিয়ে ফিরলেন দীর্ঘদিন পর, এবং দর্শকদের নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে অপেক্ষমান রাখলেন পরের কাজটির জন্য। যাদের জন্য নাটকটি শেষ করে দর্শক মুগ্ধতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়, তারা হলেন চঞ্চল চৌধুরী আর নুসরাত ইমরোজ তিশা।

এছাড়া সোহেল খান এবং গুলশান আরার কমেডি দেখে মন থেকে হাসতে বাধ্য প্রতিটি দর্শক। এভাবেই নির্মাতা ফাহমি হাসি আর রহস্যের ধূম্রজালে দর্শকদের কিছু সময়ের জন্য আঁটকে রেখেছিলেন স্ক্রিনের সাথে।

 




৪. পতঙ্গ

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে ‘পতঙ্গ’ নির্মাণ করেছেন পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকু! কিছু পতঙ্গ আছে যারা ক্ষণিকের সুখের জন্য নিজের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ঝাপ দেয় আগুনে। কোনো না কোনো ভাবে আমরা মানুষরাও অনেকটা পতঙ্গের মতোই। আরও সুখের কামনায় সারাটা জীবন ঘুরে ফিরি অচেনা মোহের পিছে পিছে, বেশিরভাগ সময় যার শেষটা হয় আগুনে ঝাপ দেয়া পতঙ্গের মতোই। মানবজীবনের এমন চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘পতঙ্গ’।

নন-লিনিয়ার স্টোরিটেলিং এ অভিনয় করে দ্যুতি ছড়িয়েছেন মেহজাবিন আর আফরান নিশো। তাছাড়া এই নাটকের ‘জামদানী শাড়ি’ গানটা মুগ্ধ করবে সবাইকে, অনেকদিন পর কোনো নাটকে একটা থীম সং এর প্লেসমেন্ট এত পারফেক্টভাবে পেলাম।

 




৫. আশ্রয়

আমরা সাধারণত সন্তান এডপ্ট করার কথা জানি বা করি কিন্তু কখনো কোনো নিঃসঙ্গ এক বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাকে বাবা/মা হিসেবে এডপ্ট করার কথা চিন্তা করেছি? মনে হয় না! তরুণ নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ পরিচালিত ‘আশ্রয়’ নাটক মূলত বাবা-মা এডপ্ট করার এই থীমের উপর বেজ করেই বানানো। আমি নাটক শেষ করে অনেকক্ষণ ভেবেছি ব্যাপারটা নিয়ে। যদি সত্যিই বাবা-মা এডপ্ট করা যেতো, তাহলে আর কোনো বৃদ্ধাশ্রমের বাতাসে হাহাকার উড়ে বেড়াতো না, ক্লান্ত দুপুরে কোনো সন্তানহীন বাবার মনে অব্যক্ত বিষাদ জমাট বাঁধত না!

যারা পরিবার নিয়ে জীবন-ঘনিষ্ঠ গল্পের সাথে একটি সুন্দর সময় কাটাতে চান, তাদের কাছে বেষ্ট চয়েজ হতে পারে ‘আশ্রয়’। এখানে আছে নির্মাতার একটি ম্যাসেজ, যে ম্যাসেজটি বর্তমানে প্রতিটা পরিবারে খুব বেশি দরকার। এই নাটকে অভিনয় করেছেন- তাহসান, তিশা, মোশাররফ করিম, মম।

 


৬. লাইফ ইনস্যুরেন্স

একটি বেসরকারি ইনস্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান, যাদের হাতে সাধারণ মানুষ তাদের জীবনের সবটুকু সম্বল বিশ্বাস করে তুলে দেয়। হঠাৎ মানুষদের সেই শেষ সম্বল নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। মানুষ তাদের টাকা ফেরত পাবার জন্য চাপ দিতে থাকে কর্মকর্তাদের। ছেলেকে মিথ্যা ঋণের হাত থেকে মুক্ত করতে মা তার জীবন বিসর্জন দেন। ফলে মায়ের লাইফ ইনস্যুরেন্স এর টাকা পায় তার পরিবার, পরিবার মুক্ত হয় মিথ্যা ঋণের বোঝা থেকে।

আমাদের সমাজের এই চিরচেনা গল্পকে নিজস্ব ঢঙে “লাইফ ইনস্যুরেন্স” নামের নাটকে রূপান্তরিত করেছেন ভালোবাসার গল্পকথক মিজানুর রহমান আরিয়ান। নির্মাতার অন্যান্য নাটকের মতো এই নাটকটিতেও রয়েছে মন ভালো করে দেয়া কিছু ডায়লগ। এখানে অভিনয় করেছেন অপূর্ব, মিথিলা।

 


৭. লাইফ অব জলিল

৪৬ বছর আগে লেখা গল্পের সাথে হুবুহু মিলে যায় ৪৬ বছর পরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা!! এটাকে আপনারা কি বলবেন? 

“Coincidence?”

বাস্তব জীবনে কি তেমন কো-ইন্সিডেন্স হয়? হয়তো হয়, আমরা জানি না বা বুঝতে পারি না! তেমনই একটি আড়ালে থেকে যাওয়া কো-ইন্সিডেন্স নিয়ে এগিয়েছে ‘লাইফ অব জলিল’ এর কাহিনী।

নিশোর সাথে সম্পর্ক করে সাফা তার বাবার চিকিৎসার কথা বলে টাকা নেয়। সেই টাকা দিয়ে অন্য একটা ছেলের জন্য বাইক কিনে। সাফা প্রতারণা করে সহজ সরল নিশোর সাথে। দগদগে একটা ঘা নিয়ে জীবন কাটাতে থাকে নিশো। অনেক দিন পর ঘটনাক্রমে নিশো বিয়ে করে সাফাকে, কিন্তু এই বিয়ে কি ভালোবাসার বিয়ে নাকি অন্যকিছু?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে এমন একটা উত্তর পাবেন যা চিন্তাও করতে পারবেন না! আর এখানেই মুন্সিয়ানা দেখানোতে সিদ্ধহস্ত তরুণ নির্মাতা ভিকি জাহেদ। ভিকি জাহেদের নির্মাণ মানেই শেষে একটা জোর ধাক্কা, জলিলও খেয়েছে সেই ধাক্কাটি, আর জলিলের সাথে সাথে ধাক্কা খাবেন আপনিও।

দারুণ মেকিং, প্রেজেন্টেশন আর আফরান নিশো ও সাফা কবিরের অভিনয় মুগ্ধ করবে সব দর্শক।

 


 

৮. স্বপ্ন দেখি আবারো

স্বপ্ন দেখে প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি মানুষের জীবনেই আছে কিছু না কিছু স্বপ্ন সত্যি করার ইচ্ছা। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত- সমাজের প্রতিটা স্তরের মানুষের জীবন যাপিত হয় সেই স্বপ্নকে সত্যি করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। কিন্তু শুনতে তেতো লাগলেও এটা সত্য যে, উচ্চবিত্তদের যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া নিম্নবিত্তদের স্বপ্ন পূরণ অনেক কঠিন!

তাই হয়তো অনেক নিম্নবিত্ত মানুষ স্বপ্ন দেখাই ছেড়ে দিয়েছে! ‘স্বপ্ন দেখি আবারো’ নাটকটি মূলত নিম্নবিত্ত দু’জন স্বপ্নবাজ মানুষের গল্প, যাদের স্বপ্ন ভাঙে প্রতিটি ক্ষণে! তবুও তারা স্বপ্ন দেখে নতুন একটি ভোরের, যে ভোরের সূর্যকিরণ তাদের দিবে সুখের কোনো বার্তা।

‘স্বপ্ন দেখি আবারো’ নির্মাতা মাহমুদুর রহমান হিমির সেরা কাজ বললে ভুল হবে না একদমই। বিজিএম, কালার গ্রেডিং, ডায়লগ সব ছিল আপ টু দ্য মার্ক; শুধুমাত্র স্ক্রিনপ্লে’র দিকে পরিচালকের আরেকটু নজর দেয়া দরকার ছিল বলে মনে হয়েছে। অভিনয়ে ছিলেন মেহজাবিন, শ্যামল মাওলা। আর আরেকটি তথ্য, এই নাটকের গল্প মেহজাবিনের নিজের।

 


৯. দরজার ওপাশে

-আচ্ছা আন্টি, ধর্ষণ কী ?
বাচ্চা মেয়েটির মুখে কথাটি শোনামাত্রই তাকে বুকে টেনে ধরলো তার আন্টি। কী উত্তর দেবে সে? 

ওই শব্দটি শোনামাত্রই অজানা শঙ্কায় কেঁপে ওঠে সে। সেদিন ট্রাফিক সার্জেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য এক গাড়িতে একটি মেয়েকে হাত নাড়াতে দেখে সে। পিছু নেয়া হয়ে উঠে না। পরের দিন সেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে হত্যার খবর সে দেখতে পায় টিভিতে। এই ঘৃণ্য কাজে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। এগিয়ে যেতে থাকে ‘দরজার ওপাশে’ নামের দুর্দান্ত গল্পের নাটকটি।

ড্রামাটিক ভাইবের সাথে থ্রিলিং আবহটা বেশ ভালোই তৈরি করেছেন নির্মাতা অংশু। বক্তব্যধর্মী এই নাটকে পুলিশ হিসেবে আইন মানার ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ববোধ আর সাংসারিক জীবনে সংবেদনশীল নারীর ডাইমেনশনাল চরিত্রটিতে অপি করিম দারুণ অভিনয় করেছেন। সহচরিত্রে ঠিকঠাক ছিলেন জয়রাজ।

 


১০. #হ্যাশট্যাগ

তুমি কীভাবে পাশ করো আমি দেখে নিবো?
কীভাবে বের হও ইউনিভার্সিটি থেকে দেখে নিবো?

একই টিচারের কোর্স পাশ করার যোগ্যতা থাকার পরও মাসের পর মাস ফেইল করে যাওয়া, টিচারের কথা না মানলেই লাইফ জাহান্নাম হতে বেশি দেরি থাকে না- এসব যেন কলেজ-ভার্সিটিতে একটা কমন ব্যাপার হয়ে গিয়েছে! কেউ সাহস করে টুঁ-শব্দটিও করতে পারে না। কিন্তু এর ফলে একজন কোমলমতী ছাত্র বা ছাত্রের যে কী অবস্থা হয় সেটা কি কেউ জানে?

একটা শিক্ষার জায়গায়ও নরপিশাচরা ঘুরে বেড়াতে পারে মানুষ রূপে তারই ক্ষুদ্র কিছু অংশ এই নাটকে বেশ বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ইমরাউল রাফাত। অভিনয়ে ছিলেন মেহজাবিন, তামিম মৃধা। 

এই ছিল ফিল্মকাস্ট সেরা ১০ ঈদের নাটক।

আশফাক নিপুনের ‘আগন্তুক’কে নিয়ে ছিল অনেক আলোচনা ও প্রশংসা। ভালোবাসার গল্পকথক মিজানুর রহমান আরিয়ান প্রথমবারের মতো বানালেন ‘কেস ৩০৪০’ নামের একটি থ্রিলারধর্মী নাটক যা প্রচুর হাইপ তুলতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও এবার কমেডি নাটক হিসেবে আলোচনার শীর্ষে ছিল কাজল আরেফিন অমির ‘ব্যাচেলর ঈদ’ ও জিয়াউর রহমান জিয়া পরিচালিত ‘মধ্যরাতের সেবা’।

রোমান্টিক ও সিনেমাটিক নাটকের মধ্যে উল্লেখ করতে হবে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘শিশির বিন্দু – পার্ট ২’ এবং রুবেল হাসান পরিচালিত ও জাফরিন সাদিয়া রচিত বিগ বাজেট ওয়েবসিরিজ ‘রাজকুমার’ , সুমন আনোয়ার এর ‘মায়া’ এর নাম। সোশ্যাল রোমান্টিক ড্রামা জনরাতে মহিদুল মহিম পরিচালিত ‘মোবাইল চোর’ দর্শকদের বেশ ভালো লেগেছে। 

সব মিলিয়ে দর্শক যেমন গল্প চায়, নির্মাতারা এবার ঠিক তেমন গল্পের প্রতিই জোর দিয়েছেন। এর ফলাফল তো আমাদের চোখের সামনেই। নির্মাতাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটির দিকে যেন একটু দৃষ্টি থাকে; বাংলা নাটকের এই সুন্দর দিনগুলো যেন আবারো রাতের আধারে ঢেকে না যায়। 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *