Indian Movie Review

থাডাম: যে ক্রাইম থ্রিলারে মুগ্ধ সবাই

স্টোরিলাইন:
ইজিল (অরুণ ভিজয় ১)- একজন কন্সট্রাকশন বিজনেসম্যান, ধীরে ধীরে যে পৌঁছে যাচ্ছে সফলতার দ্বারপ্রান্তে। সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি প্রজেক্ট দাঁড় করিয়েছে ইজিল, যা ব্যর্থ হলে ব্যর্থ হবে সে নিজে। স্বপ্ন দেখার রাস্তায় তার দেখা হয় দীপিকা নামের একটি মিষ্টি মেয়ের সাথে।

দীপিকা (তানিয়া হোপ)- দীপিকা চায় ইজিলের সাথে তার স্বপ্নের রাস্তার সঙ্গী হতে। দীপিকা ইজিলকে দেয় অনেক সাহস, অনুপ্রেরণা। কিন্তু এক সময় দীপিকা হারিয়ে যায় ইজিলের জীবন থেকে। লোকমুখে কথা শোনা যায়- দীপিকা নাকি সাকসেসফুল এক বিজনেসম্যানের সাথে চলে গেছে অন্য কোনো দেশে।

কাভিন (অরুণ ভিজয় ২)- ছোটখাটো জুয়াড়ি, ধান্ধাবাজ একজন মানুষ যে তার জীবন চালাচ্ছে মানুষকে ঠকিয়ে। হঠাৎ তার দরকার হয় বেশ বড় অঙ্কের একটা টাকার, যা না যোগাড় করতে পারলে মরতে হবে তার প্রিয় বন্ধুকে। অল্প সময়ে বড় অঙ্কের টাকা- জোচ্চোরি ছাড়া আর কোন উপায় নেই কাভিনের! মানুষ ঠকাতে ঠকাতে তার সাথে পরিচয় হয় আনন্দী নামের এক মায়াবতী মেয়ের সাথে।

আনন্দী (শ্রুতি ভেঙ্কেট)- কাভিন জোচ্চোর জানার পরেও তাকে ভালোবেসে ফেলে আনন্দী। নিজের কিছু না থাকা সত্ত্বেও সাহায্য করে কাভিনকে!

আকাশ (ইয়াশাকিয়াপ্পান)- প্রথম ইন্ট্রোতেই খুন হয় সবার প্রিয় এবং খুব ভালো একটা ছেলে যার নাম আকাশ। বড়লোকের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও আকাশ বখে যায়নি, আর এই আকাশই খুন হয় নির্মমভাবে। এবং এই খুনের সাথে জড়িয়ে যায় ইজিল আর কাভিন!







প্লট ডিসকাশন:
এই হল টোটাল স্টোরিলাইনের ভাগ ভাগ করা অংশ। এভাবে বললাম কারণ মুভি দেখার সময়েও এভাবেই ভেঙে ভেঙে গল্পটা দেখানো হয়েছে। দেখতে দেখতে এই ভাগ করা অংশগুলো এক সময় ছেঁড়া সুতো মনে হলেও আসলে এই ছেঁড়া সুতোগুলোই পুরো গল্পের বুননে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। থিরুমেনির পরিচালনা করা ‘থাডাম’ মূলত একটি হত্যাকাণ্ডের সাথে এক আইডেন্টিকাল টুইন্সের জড়িয়ে যাওয়ার গল্প, যে হত্যাকাণ্ডের প্রাইম সাস্পেক্ট হচ্ছে ইজিল আর কাভিন। যদিও টুইন্স ব্রাদারদের নিয়ে সব ইন্ডাস্ট্রিটেই প্রচুর মুভি হয়েছে, ‘থাডাম’ এর গ্রিপিং স্ক্রিপ্ট এবং রিয়েল লাইফ ইন্সিডেন্ট এই মুভিকে একটুও বোরিং হতে দেয়নি। ওহ হ্যাঁ, বলা হয়নি, ‘থাডাম’ মুভিটি মূলত একটি বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত।




প্লাস পয়েন্ট:
ডিরেকশন- ২০১৪ সালে লাস্ট মুভি রিলিজ হওয়ার প্রায় ৫ বছর পর কামব্যাক করলেন ডিরেক্টর মেগাইর থিরুমেনি। এবং তার কামব্যাকটা হল অনেক স্টাইলিশ, এঙ্গেজিং, আই ক্যাচি। খুব যত্নের সাথে তিনি বানিয়েছেন ‘থাডাম’ মুভিটি।

স্ক্রিনপ্লে, স্টোরি, সিনেম্যাটোগ্রাফি- দুর্দান্ত, মাইন্ডব্লোয়িং! মুভিটা দেখার সময় দর্শককে প্রতিটা মুহূর্ত টানটান উত্তেজনার মধ্যে থাকতে হবে। সেকেন্ড হাফ থেকে মুভির টেনশন যেন দর্শককে গলা পেঁচিয়ে ধরে, মুভির পরতে পরতে যেন রহস্য ছড়িয়ে আছে যার জট না খোলা পর্যন্ত একটা ঘোরের মধ্যে থাকতে হবে দর্শককে।

অভিনয়- অরুণ ভিজয় নিজের সেরাটা দিয়েছেন। টুইন্স বলতে যে টিপিকাল ক্যারেকটার দেখানো হয়, ‘থাডাম’ সেটার থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে দক্ষতার সাথে। দুই ভাইয়ের ব্যবহার, কথা-বার্তা, আচার-আচরণের মধ্যে পার্থক্যটা যেন তাদের চরিত্রে প্রাণ দিয়েছে। এমনকি প্রতিটি অ্যাকশন সিকুয়েন্সেও অরুণ ভিজয় ছিল পারফেক্ট। তাছাড়া অন্যরাও যার যার জায়গা থেকে সেরাটা দিয়েছেন।




মাইনাস পয়েন্ট:
আগেই বলেছি, সেকেন্ড হাফ ছিল একদম থ্রিলিং। আর এই থ্রিলিং সেকেন্ড হাফের কিছুটা অভাব দেখা গিয়েছিল ফার্স্ট হাফে। তাছাড়া ফার্স্ট হাফ কিছুটা পেঁচানোও লেগেছে, যেই পেঁচ খুলে ক্লাইম্যাক্সে!

আর শেষের দিকে যখন একটা ফ্ল্যাশব্যাক দেখানো হয়, সেটাও আরেকটু ছোট করে মুভির রানিং টাইম আরেকটু কমিয়ে ‘থাডাম’কে একটি কমপ্যাক্ট কমপ্লিট প্যাকেজ বানানো যেতো।

সবশেষে বলতেই হবে, দুয়েকটা ফ্লো’স ছাড়া ‘থাডাম’ একটি ফুল এন্টারটেইনিং প্যাকেজ। এই মুভিটি দেখে কারো ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট বিফলে যাবে না।
এই কারণেই তো এই মুভির আইএমডিবি রেটিং এখনো ১০ এর মধ্যে ৮.২!
আমার রেটিং: ৭ / ১০

You may also like...

Leave a Reply