Contents English Movie Review

“ম্যারেজ স্টোরি” (২০১৯)- ‘সুখ’ নামক মরীচিকার পিছু ছুটে যায় আধুনিক যৌথজীবন।

Marriage Story (2019)

– ড্রামা, কমেডি

 

– পরিচালক ‘নোয়া্ বাউম্বাখ’-এর “ম্যারেজ স্টোরি” সিনেমা আরম্ভ হয় দম্পতি চার্লি এবং নিকোলের একে অপরের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সকল কারণগুলো আবৃত্তির ঢঙে পাঠ করার মধ্য দিয়ে, যা তারা কাগজে লিখেছে। এবং ভালোবাসার সহজাত সেই ছোট ছোট নিদর্শনগুলো এতটা মনোহর, আদুরে যে, দর্শক তৎক্ষণাৎ দুটি চরিত্রের সাথে এক অদ্ভুত মায়াডোরে নিজেকে জড়িয়ে নেয়। তাই তো, দর্শক যখন জানতে পারে, ডিভোর্স ল্যয়ারের নির্দেশেই এই তালিকা দু’টি দম্পতি তৈরি করেছে তখন তাদের সম্পর্কের অবস্থান দর্শকের মনে ধাক্কা দেয়, মনকে ব্যথিত করে। এবং সময় ধরে, এই দম্পতির সম্পর্কের তীক্ষ্ণ, হৃদয় বিদারক এক ময়নাতদন্ত চালান ‘নোয়া্ বাউম্বাখ’।

 

নিউ ইয়র্কের প্রশংসিত একজন মঞ্চ নির্দেশক, চার্লি। স্ত্রী নিকোল সম্ভাবনাময় একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ছিল। কিন্তু স্বামী, সংসার আর মঞ্চে অভিনয়ের তরে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারকে বিসর্জন দিয়েছে সে। মঞ্চে অভিনয় করতে গিয়ে নিকোল অনুভব করে তার পরিচিতি, প্রশংসিত হওয়ার জায়গাটা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। ওটা নির্দেশকের জন্যই বরং বরাদ্দ থাকছে। বিষয়টি ওভাবে বড় করে না দেখলেও নিকোলের ভেতর খচখচানি’টা পোক্ত হতেই থাকে। মূলত সে-তাড়না থেকেই চার্লিকে না জানিয়ে একটি টিভি সিরিজের পাইলটে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব সাদরে নিয়ে নেয় নিকোল। এবং ওই সূতো ধরে লস এঞ্জেলসে থিতু হতে চায় নিকোল। আর এই গোটা ব্যাপারটায়, তাঁর সাথে ছলচাতুরী করা হয়েছে বলে ভাবে চার্লি। চার্লি অসম্মতি জানায়। নিকোল তাকে স্বার্থপর আর সংসারের কাজে অনবহিত হওয়ায় তাচ্ছিল্য করে। নিকোলের নানান আইডিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে, ভুলত্রুটি ঠিকঠাক করে চার্লি তাঁর মঞ্চনাটকে ব্যবহার করেছে, প্রশংসাও কুড়িয়েছে। নিকোল সেসবে মানিয়ে নিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। নিকোলের ক্ষীণ হয়ে আসা দুনিয়াটাকে সে, পুনরায় সুবিশাল করে গড়ে নিতে চায়। নিজের পরিচিতি বানাতে চায়। কিন্তু বোঝাপড়ার ভুল তাদের মাঝে দুরুত্ব আর উত্তাপটাই শুধু বাড়িয়ে গেছে। বাড়তে বাড়তে তা ডিভোর্স ল্যয়ারের দোরগোড়ায় এসে থেমেছে। মনবদল করে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, তৃতীয়পক্ষের হস্তক্ষেপ বিনে তারা নিজেরাই একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ ইতি টেনে নিবে। কিন্তু নিকোলের ফের মনবদল হলো। একটা সুন্দর সম্পর্কের কুৎসিত ইতি টানতে উকিল নিয়োগ করলো। বাধ্য হয়ে চার্লিও উকিল নিয়োগ করলো। তাদের সন্তানের জন্য কোনটি সঠিক সে-বিচার করতে নেমে, ছোট ছোট বিষয়গুলোতে সৃষ্ট মনোমালিন্যকে কদাকার বানিয়ে সেই কদাকার রূপটাতেই একে অপরের প্রতিকৃতি বানানোর যুদ্ধ আরম্ভ করেছে চার্লি এবং নিকোল।

ট্রেনের একই বগিতে কয়েক কদম দুরুত্বে তারা, কিন্তু দুরুত্বটা আসলে কয়েক লক্ষ মাইলের।

চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক ‘নোয়া্ বাউমম্বাখ’ “দ্যা স্কুইড এন্ড দ্যা ওয়েইল” (২০০৫) সিনেমা দিয়েই সর্বপ্রথম আলোচিত এবং প্রশংসিত হন। সেই সিনেমা পিতামাতার বিচ্ছেদের বিষয়টি একজন সন্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে, যা-তাঁর নিজের জীবনের ঘটনা অনুসরণ করেই রচিত। এবং এই “ম্যারেজ স্টোরি” বলা যায়, ওই গল্পের উল্টো রূপ। ম্যারেজ স্টোরিতে, ‘বিচ্ছেদ’ দুই দম্পতির দৃষ্টিকোণ হতে বর্ণিত হয়েছে। মনে হয়, প্রায় ১৫ বছর আগের “দ্যা স্কুইড এন্ড দ্যা ওয়েইল” এর সেই ছেলে এখন আর অবুঝ’টি নেই। সে-রাগটা এখন আর তার মাঝে নেই। ঘৃণাটা নেই। এখন সে বিচ্ছেদের দুটি দিকই দেখতে শিখেছে। বুঝতে শিখেছে ভুলত্রুটি মানুষেরই হয়, সম্পর্কের রূপরেখা বদলাতে পারে সময়ের পায়ে পা মাড়িয়ে। ওমনটাই সত্য। তাই সে সমব্যথী হয়েছে।

 

সম্পর্কের জটিলতা, দূরত্বকে অত্যন্ত মানবিক উপায়ে ফুটিয়ে তোলার যে-নিপুণতা বাউম্বাখ রপ্ত করেছেন বছর ধরে, তা সুউচ্চ অবস্থানে নিয়ে গেলেন “ম্যারেজ স্টোরি” দিয়ে। একেবারে নিজস্ব এবং মর্মস্পর্শী ভঙ্গীতে ‘ম্যারেজ স্টোরি’র গল্পবয়ান করেছেন বাউম্বাখ। চার্লি এবং নিকোলের সম্পর্কে দর্শককে সমব্যথীর অবস্থান দেওয়ায় নয়, বরং এই দম্পতি এমন মুহূর্ত’টাকে কি করে সামলাবে, এরপর কী করবে, বলবে- তেমন ভাবনার জালে হাত জড়িয়ে নেওয়াদের দলে দর্শককে ভিড়িয়েই অনন্য হয়ে উঠেছে ” ম্যারেজ স্টোরি।” সম্পর্ক ভাঙনের পরের গল্প নয় বরং ভঙ্গুর সম্পর্ক চালিয়ে নেওয়া কতটা কষ্টসাধ্য সে-গল্পই বলে এই সিনেমা। চার্লি এবং নিকোল, দুজনেই তারা সংবেদনশীল। দুটি চরিত্রই নিজেদের আত্মনিমগ্নতা হতে অনুকম্পার গোটা গ্যামাট ধরে এগিয়ে চলে।







দেহ দুটি একই বিছানায় থাকলে, মনটা আর নেই সেথায়।

এবং ‘অ্যাডাম ড্রাইভার’ এবং ‘স্কারলেট জোহানসন’ চরিত্র দু’টির প্রতিটি স্তরকেই তাদের অভিনয় দিয়ে মহিমান্বিত করে তুলেছেন। ড্রাইভার, বাউম্বাখের আরো দুটি কাজে (‘হোয়াইল উই আর ইয়ং’ , ‘ফ্রান্সিস হা) নিজের অভিনয়শৈলীর সবটুকু দিতে না পারলেও, এই সিনেমায় নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে গেছেন। বাচ্চার প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ কেমন তা খুঁটিয়ে দেখতে একজন কর্মী যখন বাসায় আসে, দুর্ঘটনাবশত হাত কেটে ফেলার পর, কর্মীকে আশ্বস্ত করতে (যাতে সন্তানের প্রতি তার দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন না উঠে) ” এটা এমন কিছু না”- ভাব নিয়ে চুপচাপ কাটা হাত নিয়ে বসে থাকা এবং ওই মহিলা প্রস্থানের পর গলগল করে বেরিয়ে পড়া রক্ত থামাতে গিয়ে অবসাদে রান্নাঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার গোটা দৃশ্যটি অতি সূক্ষ্মভাবে ফিজিক্যাল কমেডির আবহ তৈরি করার পাশাপাশি, করুণ কন্ঠে বিদ্রুপ-ও উপহার দেয়।

 

জোহানসন এবং ড্রাইভার দুজনেই বাউম্বাখের নিকোল এবং চার্লি- চরিত্র দুটিকে বুঝেছেন। চরিত্র দুটির ভুলত্রুটি আর দুর্বলতা গুলোকে আলিঙ্গন করেছেন এবং সেসব মেনে নিয়ে চরিত্র দুটিতে বাস করেছেন। বাউম্বাখের মিড শটগুলোতেই চরিত্র দুটির বিচ্ছিন্নতাকে ধারণ করেছেন ড্রাইভার এবং জোহানসন, যা তাদের বেদনায় কুঁকড়ে যাওয়া মুখের অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট। তবে শুধু প্রধান দুটি চরিত্র থেকেই নয়, বাকি ছোট/বড় সকল চরিত্রের অভিনেতা/অভিনেত্রী থেকে পর্দায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রাখার মতো অভিনয় বের করে এনেছেন, নোয়া্ বাউম্বাখ। নোরা চরিত্রে ‘লওরা ডার্ন’ চমকপ্রদ অভিনয় উপহার দিয়েছেন। একজন ‘স্মুথ টকার’ সে, কিন্তু মামলা আদালতে গড়ালে প্রতিপক্ষের পুরুষ উকিলের চাইতে দ্বিগুণ নিষ্করুণ হয়ে উঠতে পারে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই। কান্ডজ্ঞানসম্পন্ন এবং খানিকটা পাগলাটে- এমন স্বভাবের মাঝে বাস করা চার্লির উকিল জে চরিত্রে ‘রে লিওটা’ অনেকদিন পর শক্তিশালী অভিনয় দিয়েছেন এবং করার মতো চরিত্রও পেয়েছেন। চার্লি-নিকোলের ছেলে হেনরি চরিত্রে ‘অ্যাযি রবার্টসন’ একেবারে খাঁটি অভিনয় উপহার দিয়েছে, এই ছোট বয়সেই। স্বল্পভাষী, ক্ষমাশীল মনোভাবের বার্ট চরিত্রে ‘অ্যালান অ্যালডা’র কমনীয়তায় ভরা অভিনয় অন্য এক উচ্চতা দিয়েছে সিনেমাকে।




স্মুথ টকার লওরা ডার্ণ। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলেই পরিষ্কার নিকোলের উপর কতটা প্রভাব বিস্তার করছে সে।




চার্লির ক্ষেপাটে উকিল রে ললিটা।

বিশৃঙ্খল সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত ‘গ্রেট’ সিনেমাগুলোর সারিতে জায়গা করে নিতে লড়া “ম্যারেজ স্টোরি”, তাঁর পূর্বপুরুষদের কথা স্বীকার করতে ভুলে নি। নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় চার্লি এবং নিকোলের বিচ্ছেদের গল্পকে “সিনস ফ্রম আ ম্যারেজ” শিরোনামে প্রকাশ করার বিষয়টি ‘ইংমার বারিমান’-এর একই নামের সিনেমার প্রতি আহব্বান করে এবং বারিমানের সেই সিনেমার মতোই দাম্পত্য সম্পর্কের ধারালো এক রূপ প্রকাশ করে, ম্যারেজ স্টোরি। এবং ‘স্টিফেন সন্ডহেইম’-এর মিউজিকাল-কমেডি “কোম্পানি” থেকে ভিন্ন ভিন্ন গানে চার্লি ও নিকোলের পারফর্ম করাটাও অন্তরঙ্গতার অভাবে সৃষ্ট জটিলতাকেই প্রকাশ করে। ‘বিয়িং এলাইভ’ গানে চার্লির সেই চরিত্রাভিনয় আত্ম-করুণায় ফেঁসে পড়া সেই মানুষটির প্রতিচ্ছবিকেই স্পষ্ট করে তুলে। সুতো ধরে বাউম্বাখ নিউ ইয়র্ক আর লস এঞ্জেলস (যেখানে দুটো শহরের পার্থক্য আর স্পেস নিয়ে বাউম্বাখের একহাত নেওয়ার মনোভাবের চ্যালেঞ্জ সাদরে গ্রহণ করেছেন সিনেমাটোগ্রাফার, রবি রায়ান। চার্লি-নিকোলের ব্রুকলিনের বাড়ি আর নিকোলের মায়ের এল.এ. এর বাড়ির মধ্যকার স্পেস, চার্লির নিউ ইয়র্কের মঞ্চ আর নিকোলের লস এঞ্জেলসে গুহার ন্যায় সেই সেটের মাঝে স্পেসের যে পার্থক্য, নিগূঢ়তার যে পার্থক্য তা যথাযথ চিত্রণ করেছেন রবি রায়ান।), হলিউড আর মঞ্চের মধ্যকার সুযোগের সেই সীমাবদ্ধতার দিকেই আঙুল তুলেন এবং সে-বিষয় নিজের খবরদারি প্রকাশ করেন। সিনেমায় অতীত এবং বর্তমান, উত্তর এবং দক্ষিণ, অভিনয় এবং বাস্তবের জাগলিং এর মাঝে ‘উডি অ্যালেন’-এর “অ্যানি হল” সিনেমার ভারী ছোঁয়া পাওয়া যায়। উকিল নোরার অফিসে বসে নিকোল, চার্লির সাথে তাঁর সম্পর্কের গোড়ার সময়গুলো নিয়ে উজ্জ্বল আভা মুখে ছড়িয়ে বলতে থাকার দৃশ্যে “ক্রেমার ভার্সেস ক্রেমার” সিনেমার ছায়া তো পাওয়া যায় কিন্তু ‘জাঁ রেনোয়া’র ” দ্যা গ্র‍্যান্ড ইল্যুশন “-কে বাউম্বাখের অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। নোরার বলা- ” যুদ্ধ না হলেও, স্ট্রিট ফাইট ঠিকই হতে যাচ্ছে “, সংলাপের মতোই ‘ম্যারেজ স্টোরি’তে, ভালোবাসা তাসের ঘরের মতো ক্ষণস্থায়ী হয়ে বৈধতার লড়াইয়ে পাল্টে যায়।

 

আদালত প্রক্রিয়ার অংশ যখন ন্যারেটিভকে আন্ডাররাইট করে, টোনাল অ্যাক্টে ‘ম্যারেজ স্টোরি’ তখন খুব চটপটে হয়ে কোমল, আবেগপূর্ণ ড্রামা সিনেমা থেকে সশব্দে হেসে উঠার মতো স্ক্র‍্যুবল কমেডি সিনেমায় রূপান্তরিত হয়। ডিভোর্স পেপার হাতে দেওয়ার সেই দৃশ্যটি বেদনাকে প্রহসনে থিতু করেছে। দর্শকের মাঝে হাসি এবং কান্নাকে একসাথে প্রকোপিত করেছেন বাউম্বাখ। ‘ম্যারেজ স্টোরি’ একজন মাস্টার ফিল্মমেকারের সবচেয়ে ‘পরিণত’ কাজটির’ই পরিচায়ক। বাউম্বাখ, তাঁর চার্লি এবং নিকোল চরিত্র দুটিকে তিনি ভালোবেসেছেন এবং সে-ভালোবাসা জাগিয়ে তুলেছেন দর্শকের মাঝেও।

 

একটা সম্পর্কে ডিভোর্সকে দেহ ছাড়া মৃত্যু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, বাউম্বাখ। ডিভোর্স’-এর কুটিল প্রকৃতি’টাকে তুলে ধরার পাশাপাশি, একটা জীর্ণ সম্পর্কে সেই ‘ডিভোর্স’কেই আবার সমতাকারীর অবস্থান’টা দিয়েছেন, মানুষ দু’টিকে ভেতরে ভেতরে মিইয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে। সিনেমার অন্তিম দৃশ্যে ‘চার্লি এবং নিকোল’কে বিদায় জানাতে জানাতে দর্শক ভেতর থেকে এটাই অনুভব করে, সম্পর্কের মৃত্যুর পরেও কাঙ্খিত সেই ‘সুখ’ তারা যাতে খুঁজে পায়। হোক নাহয় সে-অনুসন্ধান মরীচিকার পিছে।




(চার্লি এবং নিকোলের প্রতিকৃতি দিয়ে সিনেমার দুটি পোস্টার। দুটি পোস্টারই আক্ষরিক ভাবে তাদের ভেতরের ভিন্ন, সুবিশাল দুনিয়ার কথা বলছে। সেইসাথে তাদের আলাদা পোস্টার করে, এও বলে দিচ্ছে নিজেদের দু’টি দুনিয়ায় পরস্পরের অবস্থানটা আর নেই।)

 

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *