Contents Featured

সমালোচক ” রজার ইবার্ট ” এর কুব্রিকনামা !

“স্ট্যানলি কুব্রিক” এর জন্মদিন উপলক্ষ্যে সমালোচক ” রজার ইবার্ট ” এর কুব্রিক’কে নিয়ে লেখা একটি আর্টিকেল এর অনুবাদ করলাম। কুব্রিকের মৃত্যুর পরপরই ইবার্ট আর্টিকেল’টি লিখেছিলেন, যেটি কুব্রিকের জন্মদিনে ইবার্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

————————————————————-

স্ট্যানলি কুব্রিক ১৯২৮-১৯৯৮

রজার ইবার্ট

জুলাই ২৬, ১৯৯৮

স্ট্যানলি কুব্রিক; চলচ্চিত্র পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত, স্বয়ংসম্পূর্ণ  এবং সম্ভবত সবচেয়ে স্বাধীনচেতা এই পরিচালক ৭১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করলেন। “ ২০০১ঃ আ স্পেস ওডিসি “, সিনেমার এই স্রষ্টা রবিবার ভোরবেলায় লন্ডনের উত্তরে তার গ্রামের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

কুব্রিকের লন্ডনের সেই বাড়ি

গেল শতকের চলচ্চিত্র পরিচালকেরা যখন তাদের চিত্রকল্পসমূহকে সাহসী-উদ্যমী স্বপ্নদর্শীদের ঢঙে তৈরি করছিলেন, তখন কুব্রিক সেই ভীড়ে ভিড়েন নি। চলচ্চিত্রে পূর্ণ স্বাধীনতার ব্যবহার, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কোনরকম হস্তক্ষেপকে অবজ্ঞা করার সাহস এবং প্রচার, ভাবমূর্তি এসবের প্রতি উদাসীনতাই কুব্রিককে এক কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। তিনি প্রচলিত বাণিজ্যিক প্রথার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে বিখ্যাত সব সিনেমা নির্মাণ করেছেন। মৃত্যুর ক্ষণকাল পূর্বেই টম ক্রুজ ও নিকোল কিডম্যান অভিনীত এরোটিক থ্রিলারধর্মী সিনেমা, “ আইস ওয়াইড শাট “ এর কাজ সম্পন্ন করেন কুব্রিক। টম ক্রুজ ও নিকোল কিডম্যান দুজনেই কুব্রিকের কঠোর দাবী মেনে তাদের ক্যারিয়ারের এক বছরের ও বেশি সময় দেন এই সিনেমার পেছনে। অবশ্য কুব্রিক এই সিনেমা নিয়ে কাজ করছিলেন দীর্ঘ সময় ধরে, ওয়ার্নার ভ্রাতৃদ্বয় গেলবছর সেটি মুক্তি দিতে পারার আশা করলেও, সেই আশায় ঝামা ঘষে দেন কুব্রিক।

কিন্তু কুব্রিকের বন্ধু ‘জো হ্যামস’ রবিবার আমাকে বললো, “ কুব্রিক কাজটা শেষ করেছিল। “ বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ইয়র্কে টম, নিকোল, দুই স্টুডিও নির্বাহী টেরি সেমেল এবং বব ডালি – এই ৪ জনের জন্য সিনেমার একটি প্রিন্ট প্রদর্শন করা হয়েছিল। তারা সকলেই সিনেমাটি পছন্দ করেছে।

স্টুডিও’টির কার্যনির্বাহী সহসভাপতি হ্যামস বললেন, “ কুব্রিকের মৃত্যু বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত ছিল। দিনে ১৮ ঘন্টা করে প্রতিদিন কাজ করছিল সে। এমন নির্ভুল একজন মানুষ ছিল সে। “ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পৌঁছুলেও হ্যামস জানালেন, মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঘুমন্ত অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক দশকে ওয়ার্নার ভ্রাতৃদ্বয়ের সাথে নতুন করে চুক্তি নির্ধারিত হয়েছে কুব্রিকের, যাতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ আছে; কুব্রিক তার পছন্দ অনুযায়ী সিনেমা বানাবে, সে যে-খরচ নির্ধারণ করবে সে খরচেই এবং যেভাবে সে সিনেমার প্রিন্ট স্টুডিওর হাতে দিবে সেভাবেই মুক্তি দিবে স্টুডিও। এমনকি একসময় যখন দাপুটে পরিচালকদের সিনেমার “ফাইনাল কাট” করার অধিকার ছিল নিজেদের হাতে, তখনো এই স্বাধীনতা অকল্পনীয় ছিল। হ্যামস বললেন, ওয়ার্নার স্টুডিওতে শুধুমাত্র কুব্রিক এবং ক্লিন্ট ইস্টউড-ই এই স্বাধীনতা পেয়েছেন। এই দুজন যা-ই চাইতেন, তাই-ই পেতেন।

কুব্রিক কালেভদ্রে নিজের ছবি তুলতেন এবং সাক্ষাৎকার ও দেন নি অনেক বছর ধরে। ব্যবসায়িক কার্যাবলীর অধিকাংশই তিনি মোবাইল ফোনেই সম্পন্ন করতেন। ইংল্যান্ডের গ্রামাঞ্চলের নিজস্ব বাড়িতেই কুব্রিক তার সিনেমার সম্পাদনা এবং শব্দগ্রহণের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, এবং লোকেশন বাছাইয়ের জন্য ভ্রমণ না করে বরং নিজেই নিজের লোকেশন সৃষ্টির জন্য বিখ্যাত তিনি। তার ভিয়েতনামি সিনেমা “ ফুল মেটাল জ্যাকেট “ এর সম্পূর্ণ চিত্রগ্রহণ হয়েছে ইংল্যান্ডে এবং মহাবিশ্বের গল্প নিয়ে নির্মিত “২০০১ঃ আ স্পেস ওডিসি”র ও তাই। অনেকেই ২০০১- আ স্পেস ওডিসি’কে এই শতকের সেরা সিনেমা হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।







স্পেস ওডিসির একটি বিখ্যাত দৃশ্য।

স্পেস ওডিসি; দৈর্ঘ্য অনুযায়ী খুবই স্বল্প সংলাপের এক মহাকাব্য, যার স্পেশাল ইফেক্টগুলো এখনো পুরোনো মনে হয় না চমৎকারিত্বের জন্য, এর দুর্বোধ্য সমাপ্তি যা নিয়ে বিতর্ক চলে আজো এবং স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার’কেও পেছনে ফেলে দেওয়া উদ্দীপনাহীন মানব চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটানো এই সিনেমা নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে অনুকরণীয় সিনেমা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেসময়। মহাকাশে প্রদক্ষিণরত নভোচারীদের কাছে যখন জানতে চাওয়া হয়েছিল, মহাকাশ দেখতে কেমন, জবাবে তারা বলেছিল, “ স্পেস ওডিসিতে দেখানো দৃশ্যের মত। “

বিগত বছরগুলোতে কুব্রিক চলিত প্রথাগুলোকে গ্রাহ্য না করে খুব ধীরেসুস্থে নিজের মত করে কাজ করেছেন। কুব্রিকের প্রতিপত্তি এতটাই উঁচুতে ছিল যে; ক্রুজ, জ্যাক নিকলসন এর মত বড় তারকারা বাধ্য হতেন তার আদেশ মেনে অন্যান্য কাজগুলোকে স্থগিত রেখে তার সিনেমার শ্যুটিং এর জন্য দীর্ঘ শিডিউল দিতে। এমনকি প্রত্যেকটা শটের জন্য অনেকবার টেক দিতেও আপত্তি করতেন না।

কুব্রিকের এই অসংখ্যবার টেক নেওয়ার ব্যাপার’টা সম্পর্কে তার সিনেমা “ ফুল মেটাল জ্যাকেট “এর অভিনেতা ম্যাথিউ মডিন প্রশ্ন তুললে তিনি মডিনকে জানান, “ দ্যা শাইনিং সিনেমার সেটে জ্যাক নিকলসন’কে তার সংলাপগুলো সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিয়ে আসতেন। ৬ টেকের পর তিনি সংলাপগুলো বুঝতে পারতেন। ২০ টেকের পর সংলাপগুলোর মর্মার্থ তিনি অনুধাবন করতে পারতেন। ৫০ টেকের পর তিনি তার সংলাপগুলো মজার এক ভঙ্গীমায় প্রদান করতে পারতেন। এবং ১০০ টেকের পর তিনি সংলাপগুলো দর্শকদের অনুধাবন করাতে সক্ষম হতেন।




কুব্রিকের বহুবার টেক নেওয়ার প্রকৃতি সম্বন্ধে প্রশ্ন তোলা, ম্যাথিউ মডিন (ফুল মেটাল জ্যাকেট)।

“ তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পর্যায়ের খুঁতখুঁতে একজন ব্যক্তি “- কুব্রিক’কে স্মরণ করতে গিয়ে এই উদ্ধৃতি করেন পরিচালক গ্রেগরি নাভা, যিনি “ আইস ওয়াইড শাট “- এর স্প্যানিশ ভাষার সংস্করণে কুব্রিক এর পরামর্শ মেনে কাজ করেছিলেন। গ্রেগরি নাভা এও যোগ করেন, কুব্রিক দিনে ১২/১৪ বার ফোন দিতেন তাকে। কোন বিবরণই ছোট ছিল না, কুব্রিকের কাছে।

প্রকৃতপক্ষে, কোন কোন সিনেমাহলে তার সিনেমাগুলো দেখানো হচ্ছে সেটির যাবতীয় তথ্যাদি কুব্রিকের নিজস্ব কম্পিউটারে সংগৃহিত থাকতো, এবং কোথাও তার সিনেমা কম ফোকাসে অথবা ভুলভাল ব্রাইটনেসে দেখানো হচ্ছে এমন কানাঘুষা কুব্রিক শুনতে পেলে সেই প্রক্ষেপণ দফতরে কুব্রিকের ফোন বেজে উঠার ঘটনাও অশ্রুত নয়।

দ্যা শাইনিং-এ তার কাজ নিয়ে বলতে গিয়ে শেলী ডুভ্যাল একবার আমাকে বলেছিলেন, “ আমি মাসের পর মাস চিৎকার করে গেছি। আমি ভেবেছিলাম আমি আমার বোধশক্তিই হারিয়ে ফেলবো। কুব্রিক শুধুমাত্র ঠিক শট’টাই চেয়েছিল। সিনেমায় একটা দৃশ্য ছিল, যেখানে লং ট্র‍্যাকিং শটে ক্যামেরা, হোটেলের তিন দিকের সংযোগ স্থাপক পথ থেকে অভিনেতা রবার্টস ব্লোসম-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং এ দৃশ্যটা তিনি ৯০ বার নিয়েছিলেন কারণ তিনি চাইছিলেন প্রতিবারই যেন ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারের ক্রসহেয়ার’টা অভিনেতার ঠিক কপালের উপর থাকে।

১৯২৮ সনে ব্রংক্সে জন্ম নেওয়া কুব্রিক সবকিছুই দ্রুত শুরু করেছিলেন; মাত্র ১৭ বছর বয়সে “লুক” ম্যাগাজিনের আলোকচিত্রী হিসেবে প্রথম চাকরী পেয়েছিলেন তিনি, এবং ২২ বছর বয়সেই দুটো স্বল্পদৈর্ঘ্যের প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে ফেলেছিলেন। কুব্রিকের শাসন বাসনার শুরুটা সম্ভবত সেই দিনগুলোতেই; চটকদার সাময়িকীর আলোকচিত্রীরা তখন রীতিমত ডাকাতে স্বভাবের ছিল। ছবি তোলার জন্য নিজেদের ইচ্ছামত তারা চড়ে বেড়াত। এবং কুব্রিক তার প্রথম দুটি সিনেমা যেগুলো তিনি নিজ খরচে নির্মাণ করেছিলেন ফিয়ার এন্ড ডিজায়ার (১৯৫৩), কিলার’স কিস (১৯৫৫) এ ঠিক এই কায়দাই অবলম্বন করেছিলেন।

“ কিলার’স কিস “ এর ভক্তদল ছিল কিন্তু পরবর্তী দুই সিনেমা দিয়ে কুব্রিক এক স্বতন্ত্র প্রতিভারূপে উদিত হয়েছেন। ঘৌড়দৌড় প্রতিযোগীতায় ডাকাতির পরিকল্পনা নিয়ে নির্মিত “ দ্যা কিলিং (১৯৫৬) “ এ ছিলেন স্টার্লিং হ্যায়ডেন, এবং কার্ক ডগলাস অভিনীত “ পাথস অব গ্লোরি (১৯৫৭)”-কে বিবেচনা করা হয় অন্যতম শ্রেষ্ঠ ‘এন্টি-ওয়ার’ সিনেমা হিসেবে। ৩ বছর পর কার্ক ডগলাস , কুব্রিককে মহাকাব্যিক সিনেমা “ স্পার্টাকাস “ এর পরিচালক হওয়ার জন্য জোর করেছিলেন, যে-সিনেমাটি কুব্রিক পরবর্তীকালে অপছন্দ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন, যদিও এই সিনেমার বিশাল ভক্তশ্রেণী রয়েছে।




স্পার্টাকাস সিনেমায় কার্ক ডগলাস।

অংশত, হলিউডের হস্তক্ষেপ হতে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার নিমিত্তে ১৯৬১ সালে কুব্রিক ইংল্যান্ডে স্থানান্তরিত হন, এবং ১৯৬২ সালেই নির্মাণ করে ফেললেন “ ললিটা “, জেমস ম্যাসন, শ্যালে উইন্টারস, পিটার সেলারস এবং সিনেমার নামের আবেদনময়ী সেই তরুণী স্যু লিয়্যন’কে সাথে নিয়ে। অনেকেরই বিশ্বাস ছিল ভ্লাদিমির নাবোকোভ এর উপন্যাসকে সিনেমায় রূপ দেওয়া সম্ভব হবে না; কুব্রিক নায়িকাকে ১২ বছরের পরিবর্তে ১৫ বছরের করেছিলেন কেবল, এবং সিনেমাটি সমালোচকপ্রিয়তা ও বড় সাফল্য পায়।

কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে শ্রেষ্ঠ সাফল্য কুব্রিক লাভ করেন “ ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ “ (১৯৬৩) দিয়ে। পারমাণবিক যুদ্ধকে বিদ্রুপাত্মক হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা এই সিনেমাতে আরো একবার সেলার্স এর দেখা পাওয়া যায়, তাও তিন-তিনটি চরিত্রে, এবং হ্যায়ডেন’কে “ জেনারেল জ্যাক ডি. রিপার “ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। আজো অভিনব আর নতুন মনে হয় এই সিনেমাকে। এই সিনেমার সফলতা কুব্রিককে তার বাকি ক্যারিয়ারকে নিজের শর্তে নির্মাণের ক্ষমতা যুগিয়েছিল।




ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ সিনেমার তিনটি চরিত্রে পিটার সেলার্স

১৯৬৮ সনে, কুব্রিক তার সেরা শিল্পকর্ম “ ২০০১- আ স্পেস ওডিসি “ প্রযোজনা করেন, যেটি শ্রেষ্ঠ ১০ সিনেমার অনেক তালিকায় স্থান গড়ে নেয়। এই সিনেমার সফলতা অধিক বিস্ময়কর ছিল কারণ কোন গল্প ছিল না এই সিনেমায়। খোলাখুলি বলতে গেলে, স্পেস ওডিসি ছিল একটি নিরীক্ষাধর্মী সিনেমা, যেটি সভ্যতার প্রথম হাতিয়ার ব্যবহারকারী বানর থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ধাপ, মহাকাশযানে চড়ে মানুষের তার জন্ম গ্রহ ছেড়ে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনুসরণ করেছিল।

কুব্রিকের “ আ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ “ (১৯৭১)-এ তারকা ম্যালকম ম্যাকডয়েল’কে দেখা যায় নিকট ভবিষ্যৎের ভয়ংকর কল্পপৃথিবীর হিংস্র এক চরিত্র হিসেবে। এই সিনেমার দূরদর্শিত ভবিষ্যৎবাণী এতটাই ভীতিকর ছিল যে, আজো এই সিনেমাটি ব্রিটিনে নিষিদ্ধ।

ম্যালকম ম্যাকডয়েল

উইলিয়াম থ্যাকরের উপন্যাস হতে রচিত এবং রায়ান ও’নিল অভিনীত পিরিয়ড সিনেমা “ ব্যারি লিন্ডন “ (১৯৭৫) কুব্রিকের কম সাফল্য পাওয়া সিনেমাগুলোর একটি। স্টিফেন কিং এর উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে হরর সিনেমা “ দ্যা শাইনিং “ (১৯৮০) নিয়ে এবং তার সেই বিখ্যাত সংলাপ “হিইইয়ার’স জনি ” নিয়ে তারপর এলেন নিকলসন।

দ্যা শাইনিং সিনেমায়, জ্যাক নিকলসন এর ” হিয়ার’স জনি ” সংলাপ প্রদানের বিখ্যাত দৃশ্যটি।

“ ফুল মেটাল জ্যাকেট “ (১৯৮৭) শুরু হয়েছিল ম্যারিন সেনাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের দৃশ্য দিয়ে (কুব্রিক সত্যিকারের একজন কসরত প্রশিক্ষক, আর. লি এর্মি’কে ভাড়া করেছিলেন প্রশিক্ষকের চরিত্রটির জন্য) এবং ভিয়েতনামের যুদ্ধের ফুটেজের দৃশ্য সংযোজনের মাধ্যমে এগিয়ে চলে সিনেমাটি। তারপর দীর্ঘ বিরতি ছিল যেহেতু পরিচালক আরো বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিলেন, তবে সেগুলো কখনোই ক্যামেরা পর্যন্ত গড়ায় নি। তারমধ্যে একটির নাম ছিল “এ.আই”, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত এই সিনেমাটিতে হয়ত ‘ ২০০১ ‘ সিনেমার কম্পিউটার হ্যাল ৯০০০ এর প্রত্যাবর্তন ঘটতো।

এখন আরেক’টিই বাকি আছে, “ আইজ ওয়াইড শাট “। পুরোপুরি গোপনীয়তা রক্ষা করে নির্মিত এই সিনেমা স্পষ্টত যৌন দৃশ্যে ভরপুর বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবারের প্রদর্শনীর আগে ওয়ার্নার স্টুডিওর কার্যনির্বাহকেরা দুই মিনিটের ট্রেলার ছাড়া সিনেমাটির আর কোন ফুটেজ দেখতে পায় নি। ট্রেলারখানা এতটাই সাহসী ছিল যে, আমাকে জানানো হয়েছিল ওয়ার্নার স্টুডিওর এক কার্যনির্বাহী ট্রেলার দেখার পর বলে বসেছিল, “ স্ট্যানলি যে স্টুডিওর লোগো ট্রেলারে রাখলো না, আমি জানি না এতে আমার ক্রুদ্ধ হওয়া উচিত নাকি স্বস্তি পাওয়া উচিত। “

একসময় যখন বড় সিনেমাগুলোর একদিনের শ্যুটিং খরচ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার ছিল, তখনো কুব্রিকের সিনেমাগুলোর অনেক মাসের কিংবা বছরের লম্বা শ্যুটিং শিডিউল সম্ভবপর হতো কারণ কুব্রিক নির্ভুলভাবে জানতেন তার কোন জিনিস’টি চাই এবং যতটা সম্ভব কম লোকজন ব্যবহার করতেন বলেই।

মডিন আমাকে বলেছিলেন, “ তিনি অপচয়ে বিশ্বাস করতেন না। ‘ফুল মেটাল জ্যাকেট-‘এ কখনো কখনো মাত্র ৬ জন লোক নিয়ে কাজ করেছিলেন। একদিন তার কথা অনুযায়ী যথাযথভাবে সেট তৈরি করা হলে, তিনি বিদ্যুৎমিস্ত্রীকে বললেন, ‘এই সেট ঠিকঠাক আছে এবং এটি আএ পরিবর্তিত হতেও যাচ্ছে না, তাই এখানে আমার আর তোমাকে প্রয়োজন নেই।’ তাই তিনি লোকটিকে তার বাড়িতে তার বসানোর কাজ করতে পাঠিয়ে দিলেন। “

—————————- সমাপ্ত —————————–

মূল লেখার (রজার ইবার্টের) লিংক- https://www.rogerebert.com/interviews/stanley-kubrick-1928-1998

কুব্রিক এবং তার সিনেমার চরিত্ররা।

You may also like...

Leave a Reply