English Movie Review

“স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্যা স্পাইডার-ভার্স” – অ্যানিমেশন ইজ বেটার দেন লাইফ!

১৯৯৫ সালে পিক্সার যখন ‘টয় স্টোরি’ রিলিজ করেছিল তখন কি তারা জানতো এই মুভিটি কম্পিউটার অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্মের জন্য একটি ভিজ্যুয়াল ল্যাংগুয়েজই বানিয়ে ফেলেছে, যেই ল্যাংগুয়েজে পরবর্তী দুই দশকে তৈরি হবে আরও অনেক মুভি? তবে সেই সময় থেকেই যে অ্যানিমেটেড মুভি তৈরির সময় ক্যারেক্টার ডিজাইনের বুননে নতুনত্ব এসেছে সেটা বলতেই হবে। এরপর ভিমিওতে (এড ফ্রি অনলাইন ওয়াচ প্ল্যাটফর্ম) এবং মাঝে মাঝে শর্ট অ্যানিমেশন অস্কারে আরও অনেক পরীক্ষামূলক অ্যানিমেশন মুভি দেখা গিয়েছিল তবে আফসোসের বিষয়- প্রযোজকরা বিগ বাজেট অ্যানিমেশন মুভি নির্মাণে মনোযোগ দেননি তেমন একটা। এরপর ‘আইস এজ’ আর ‘দ্যা ইনক্রেডিবলস’ সেই অপূর্ণতাও দূর করে দিলো। অবশ্য এই সময় থেকে পরবর্তীতে নির্মিত সব অ্যানিমেশন মুভির ল্যাংগুয়েজ বা মেকিং ছিল অনেকটা ‘টয় স্টোরি’র তৈরি করে দেওয়া ল্যাংগুয়েজের মতো।

অতঃপর প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেটেড ফিচার মুভি তৈরির প্রায় ২৪ বছর পর ‘স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্যা স্পাইডার ভার্স’ নামের একটি অ্যানিমেটেড মুভি ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে শৈলীগতভাবে পরিবর্তিত নির্মাণের স্বাদ দিলো। ‘স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্যা স্পাইডার ভার্স’ মুভিটি ব্যতিক্রমী নির্মাণ শিল্পের উপর ভিত্তি করে বের হয়ে আসতে পেরেছে কমিক বইয়ের কেতাবি ঢং থেকে, আমি মনে করি এটি প্রশংসার দাবিদার।







কেন এই মুভিটি নিয়ে এতো পজিটিভ কথা বলছি?

চলুন কারণটা বিশ্লেষণ করি:

সবার আগে মুভির গল্প নিয়ে আলোচনা করি। আমরা সবাই পিটার পার্কার অর্থাৎ স্পাইডারম্যানকে চিনি এবং তার গল্পটি জানি। আমরা সবাই পিটার পার্কারের কৈশোরের গল্প জানি, রেডিও-অ্যাকটিভ স্পাইডারবাইটের কথাও জানি। তাছাড়া তার প্রেমের গল্প, শহরের প্রতি তার ভালোবাসা, শহর জুড়ে ওয়েব-শুটিং এর কথাও জানি। কিন্তু আমরা কি পিটারের শহরের কিশোর মাইলস মোরালেসকে চিনি? অথবা ম্যাঙ্গা গার্ল পেনি পার্কার আর তার স্পাইডার রোবটকে চিনি আমরা? অথবা সাদাকালো যুগের বাসিন্দা স্পাইডারম্যান ন’য়ার? গুয়েন স্ট্যাচি নামের মিষ্টি একটি মেয়েকে চেনেন যে কিনা একমাত্র স্পাইডার-ওম্যান?  অথবা এন্থ্রোপোমরফিক (যেখানে পশু-পাখিদের মধ্যে মনুষ্য বৈশিষ্ট্য, আবেগ অথবা অভিপ্রায় ইত্যাদি থাকে) জগত থেকে আগত পিটার পর্কার নামের একটি অদ্ভুত পশুকে? মস্তিষ্কের সেলে কোন ঘণ্টা বাজলো? না? ‘স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্যা স্পাইডার ভার্স’ মুভিটি কিন্তু নির্মাণ করা হয়েছে এই ছয়জন স্পাইডার ম্যান / ওম্যানকে ফোকাস করেই!




আর মুভিতে কিন্তু আরেকজন আছে, যার নাম কিংপিন! অদ্ভুত আকৃতির ক্রাইম বস কিংপিন বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানীকে ধরে এনে এমন একটি মেশিন বানায় যা রিয়েলিটির মাল্টিপল ডাইমেনশন (বাস্তব সত্ত্বার বহুবিধ মাত্রা) ভেঙে সেখানে ঢুকে যেতে পারে বা অল্টারনেট রিয়েলিটি ক্রিয়েট করতে পারে। এই অল্টারনেট রিয়েলিটির সাথে আমাদের রিয়েলিটির বেশ মিল আছে, আবার যৎসামান্য অমিলও রয়েছে। কিন্তু দুইটা রিয়েলিটির ব্যাল্যান্স যদি কোনভাবে নষ্ট হয় তাহলে কী হবে বলুন তো…? বুম!

কিংপিন এই অল্টারনেট রিয়েলিটি নিয়ে কাজ করার সময়ই অন্য মাত্রার একটি রেডিও-অ্যাকটিভ স্পাইডার বর্তমান মাত্রায় ঢুকে যায় এবং যার কামড়ের ফলে মাইলসও হয়ে যায় স্পাইডারম্যান! ও হ্যাঁ, একইভাবে ডাইমেনশনাল রিফট দিয়ে কিন্তু অন্য স্পাইডার হিরোরাও বর্তমান মাত্রায় ঢুকে যায়। এরপরে কাহিনী আগায় মাইলসের নিজেকে এবং নিজের এবিলিটিস খুঁজে পাওয়া এবং বাকি স্পাইডার হিরোদের সাথে ইন্টারঅ্যাক্টের মাধ্যমে। মাইলসের সর্বপ্রথম লেসন দেখে আমি হাসি থামাতে পারিনি। কেন তার হাতে সবকিছু আঠার মতো লেগে যায় এবং কীভাবে সে এটা কন্ট্রোল করতে পারবে এটা বের করাই ছিল স্পাইডার-ম্যান হওয়ার পর তার প্রথম কাজ!




এই মুভিটি প্রযোজনা করেছেন ‘দ্যা লিগো মুভি’র প্রযোজক ক্রিস্টোফার মিলার এবং ফিল লর্ড যে কিনা মুভির সহযোগী স্ক্রিপ্ট রাইটারও ছিলেন- তারা ‘দ্যা লিগো মুভি’র মজাদার ‘স্টপ – মোশন – এস্কিউ’ ফ্রেমিংটা স্পাইডারম্যান এ ও ব্যবহার করে বড় স্ক্রিনেই কমিক বুক পড়ার বদলে স্ক্রিনে দেখানোর নতুন এক চেষ্টা করেছেন! তাই ‘স্পাইডারম্যান’ মুভিটি ২ডি ড্রয়িং হলেও ক্যারেক্টারগুলো ৩ডি’র মতোই লাগে অনেকটা, ফ্রেমিং চেঞ্জ বেশ গতিময়- এই ব্যাপারগুলো অ্যানিমেটেড মুভি দেখার ক্ষেত্রে এক নতুন অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করেছে! বলা যায়, অ্যানিমেশন স্টাইল এই মুভির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। আর হবেই না বা কেন? এই মুভির অ্যানিমেশন কমপ্লিট করার জন্য ১৪০ জন অ্যানিমেটর দরকার হয়েছে, যা সনি পিকচারসের করা অ্যানিমেশন মুভিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।




এরপর বলা লাগবে ক্যারেক্টারগুলোর কথা। প্রতিটা ক্যারেক্টার (স্পাইডার-হিরো) যার যার জায়গায় জাস্টিফাইড। কিংপিনের করা ধ্বংসাত্মক কাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পোষানোর জন্য এই ক্যারেক্টারগুলো তাদের সর্বস্ব দেয়।

তাছাড়া মুভির বিজিএম মাইন্ডব্লোয়িং। কমেডি খুব বেশি নেই, তবে যা আছে তাও ডীপ স্যাটায়ার টাইপ- দেখে মন থেকেই হেসেছি। বিশেষ করে পিটার পর্কারের স্পাইডার ম্যানে টার্ন নেওয়ার স্টোরিটা দেখে আমি রানিং মুভিকে পজ করে কতক্ষণ হেসে নিয়েছিলাম!

আলটিমেটলি, ‘স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্যা স্পাইডার-ভার্স’ আমাদের প্রায় দুই ঘণ্টার একটি স্টানিং, মনোমুগ্ধকর এবং নেভার-বিফোর-সীন রাউটের রাইড প্রদান করে, যার রেশ রয়ে যাবে মুভি দেখার অনেকক্ষণ পরেও। আমি চাই, এই পর্বে একজন জবুথবু কিশোর থেকে আত্মবিশ্বাসী সুপারহিরোতে পরিণত হওয়া মাইলস যেন তাড়াতাড়ি ফিরে আসে পরের পর্বে!

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *