Indian Movie Review

‘Awe!’- নতুনত্বের স্বাদ দেওয়া মাইন্ড ব্লেন্ডিং মুভি

‘অও’ হচ্ছে এমন একটি মুভি, যেখানে সাইকোলজিক্যাল, থ্রিলার, হরর, ফ্যান্টাসি, ড্রামা, রোমান্স ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন জনরার খুব সুন্দর একটা মিক্সিং হয়ে তেলুগু ইন্ডাস্ট্রির নতুন এক ধারা সৃষ্টি হয়েছে!

‘অও’ মুভির গল্প আবর্তিত হয় একটি ক্যাফেতে বসা বেশ কয়েকটি চরিত্র এবং সেই চরিত্রগুলোর জটিলতা নিয়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সবগুলো চরিত্র কেউ কাউকে চিনে না, কিন্তু তাদের লাইফের জটিলতাগুলো অদ্ভুত কোন লিংকের মাধ্যমে সিঙ্ক্রোনাইজড!

কালি (কাজল আগারওয়াল) তার জন্মদিন পালন করতে একটি ক্যাফেতে আসে এবং সেখানে তার লাইফে মুভ অন করার ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই সময়ই সেই ক্যাফেতে একে একে প্রবেশ করতে থাকে বাকি চরিত্রগুলো!

অন্য সাইডে রাধা নামের একটি মেয়ে তার বাবা-মাকে নিয়ে আসে তার ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা করানোর জন্য। বাবা-মা যখন একটি হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে দেখা করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে, তখন সেখানে প্রবেশ করে একজন বাইকার গার্ল- হ্যাঁ, এই বাইকার গার্ল কৃষ্ণাই রাধার ভালোবাসা! রাধার বাবা-মায়ের চোখ তখন আসমানে!

একজন টাউট টাইপের ছেলে নালা (প্রিয়দর্শী) এই ক্যাফেতেই শেফ হিসেবে চাকরি করতে চায়, কিন্তু তাকে কিছু এক্সোটিক ফুড রান্না করে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে আগে। নালাকে সাহায্য করে ক্যাফের কিচেনের অ্যাকুরিয়ামে থাকা একটি গোল্ডফিশ আর একটি বনসাই!

ড্রাগ অ্যাডিক্টেড মিরা (রেজিনা ক্যাসান্দ্রা) এই ক্যাফেতেই কাজ করে, যে চায় লাইফে সেটল হতে। তাই বয়ফ্রেন্ডের সাথে মিলে প্ল্যান করে ক্যাফেতে আসা এক ধনীর টাকা চুরি করার। কিন্তু তাকে বাধা দেয়া শুরু করে এক অশরীরী আত্মা।

একজন জাদুকর (মুরালি শর্মা), যে নিজেকে পৃথিবীর সেরা জাদুকর মনে করে, সে অদৃশ্য এবং অপরিচিত কোন জাদুকরের জাদুর মায়াজালে আঁটকে যায়!

এই ক্যাফের ওয়াচম্যান (অভাসারলা) তার মৃত বাবা-মাকে দেখার জন্য টাইম মেশিন বানাতে চায়, কিন্তু তাকে বাধা দেয় তারই ভবিষ্যতের একটি অন্য রুপ।

প্রতিটা চরিত্রের প্রতিটা গল্প আলাদা এবং একে অপরের সাথে আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন মনে হলেও প্রতিটা গল্পই কালির সাথে সম্পর্ক যুক্ত। সেই সম্পর্কটা কী, সেটা দেখানো হয়েছে মুভির একদম শেষের দিকে, যেই সম্পর্কটা দেখলে দর্শক চমকে উঠতে বাধ্য!







তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন ডিরেক্টরদের যেন মেলা শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতি দুই মাসেই একজন নতুন ডিরেক্টরের একটি করে নতুন মুভি বের হচ্ছে। তবে এদের মধ্যে বেশিরভাগ ডিরেক্টর হারিয়ে যাচ্ছে কাজের কোয়ালিটির জন্য। কেউ কেউ আবার অসাধারণ কিছু কাজ করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নাম পাকাপোক্ত করেছে। ২য় পর্যায়ের প্রথম দিকেই এখন থেকে থাকবে ‘অও’ এর ডিরেক্টর প্রশান্ত ভার্মার নাম। সব হাইপড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের একসাথে রেখে অ্যাবসিলিউট টেকনিক্যাল ব্রিলিয়ান্সি দিয়ে অনেকগুলো গল্পকে একসাথে একই ফ্রেমে বাঁধা কোন চাট্টিখানি কথা নয়, এই কাজটি বেশ সাবলীল ভাবে করেছেন পরিচালক প্রশান্ত।

‘অও’ কোন সিম্পল, রেগুলার লাইনআপের মুভি নয়, এর স্টোরিলাইন বেশ কমপ্লেক্স। মুভি দেখা শেষ করে বেশ কিছুক্ষণ থম মেরে বসে থাকা লাগবে, যেমনটি হয়েছিল আমার ক্ষেত্রে। তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে খুব অল্প কিছু মুভি আছে যেগুলোর পুরো গল্প গড়ে উঠে চরিত্রগুলোর ছোট ছোট গল্পের বুননে এবং প্রতিটি চরিত্র মুভি শেষে কানেক্টেড হয়। ‘অও’ মুভিটি সাধারণত মোটামুটি ভাবে একই রকম বলা গেলেও কিন্তু সম্পূর্ণ কন্টেন্ট আলাদা ধাঁচের, আমি মনে করি ‘ব্লেন্ডিং থ্রিলার’ নামটা এই জনরার সাথে মিলে যায়।

ফ্রেশ স্ক্রিপ্ট সম্পূর্ণ সাপোর্ট পেয়েছে ফ্রেশ সিনেম্যাটোগ্রাফির কাছ থেকে। মার্ক রবিনের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও ইম্প্রেসিভ ছিল। পুরো মুভির রানিং টাইম একটু কম মনে হয়েছে, আবার এইকম টাইমেও কিছু বোরিং সিন রয়েছে যা সহজেই বাদ দেওয়া যেতো। স্টোরিটেলিং একটু স্লো তবে টাইট কমিক সেন্স এই স্লোনেস টা কমিয়ে দিয়েছে। তবে ক্লাইম্যাক্স ছিল একটু বেশিই ফাস্ট, মেইন টুইস্টটা ধরা একটু কঠিন তবে ধরতে পারলে শেষের ১৫ মিনিটেই পুরো মুভির মজা চলে আসবে। আর চাইল্ড এবিউজের সোশ্যাল ম্যাসেজটাও বর্তমান সময়ে খুব দরকারি।

যারা ভিন্ন ধরনের মুভি দেখতে চান, তাদের জন্য ‘অও’ একটি মাস্ট ওয়াচ মুভি। আমি বলব, ‘অও’ একটি ‘অওসাম’ মুভি, দেখলে সময় বা মেগাবাইট বিফলে যাবে না!

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *