Bangladeshi Featured Reviews Movie Review

দেবীর সাথে তিন প্রজন্মের হলে ফেরা!

জমজ দুই বাচ্চাকে নিয়ে তাদের আব্বু আম্মু লাইনে দাঁড়ানো। পেছনে দুজন কপোত কপোতী। আরও খানিকটা পেছনেই হাত ধরে দাঁড়ানো এক সিনিয়র সিটিজেন দম্পতি!
এক পা দু’পা করে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে লাইন। কারো মুখে শঙ্কা। কারও মুখে উদ্দীপনা। কিন্তু আগ্রহ জ্বলজ্বল করছে প্রত্যেকের চোখে মুখে।
.
দৃশ্যটা স্টার সিনেপ্লেক্সে “Debi – Misir Ali Prothombar” মুভির টিকেটের জন্য দাঁড়ানো লাইনের!
.
তবুও আপনি খুঁত ধরে, এমন মুভির প্রতি জনমনে অনাগ্রহ সৃষ্টি করবেন? সমালোচনা অবশ্যই করুন। কিন্তু তা হোক গঠনমূলক! যা পরবর্তীতে আমাদের আরও ভালো ভালো মুভি তৈরিতে সহায়ক হবে।
.
অসাধারণ কাস্ট নিয়ে নির্মিত মুভিটির প্রতি দর্শকদের প্রত্যাশা একটু বেশিই ছিল।
রানু চরিত্রে Jaya Ahsan এবং নীলু চরিত্রে Sabnam Faria একদম মিশে গিয়েছিলেন। জয়া আহসান নামটাই যেখানে একটি ব্র্যান্ড সেখানে নতুন করে আর কী প্রশংসা করা যাবে বলুন। কিন্তু, একদমই অভাবনীয় ছিলেন নীলু চরিত্রে শবনম ফারিয়া! বিজ্ঞাপন আর ভিনদেশী সিরিয়ালের লড়াইয়ে দেশী টিভি নাটক আমাদের হয়তো খুব বেশি দেখা হয়ও না। কিন্তু, ছোট পর্দার পরিচিতমুখ শবনম ফারিয়া যেন বড় পর্দায় সুযোগ পেয়ে নিজেকে আরও মেলে ধরলেন। যদি বড় পর্দায় হুমায়ুন সাহিত্য ও মিসির আলীর অগ্রযাত্রায় “নিশীথিনী”রও আগমন ঘটে, তবে, শবনম ফারিয়ার প্রতি প্রত্যাশা থাকবে সবচেয়ে বেশী।
রানুকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলা মুভিটি যে “জয়া আহসানের দেবী”, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু, মিসির আলি নামটাই যে হুমায়ুন সাহিত্যের এক অন্যতম অংশ! অনেক দর্শকই বলছেন, Chanchal Chowdhuryর কাছে মিসির আলি চরিত্রে আরেকটু বেশি আশা করেছিলেন। চঞ্চল চৌধুুরী কতটা শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী, তা তিনি প্রমাণ করেছেন বারবার। কাজেই, এ চরিত্রটিকে আরও অনেক কিছু দেয়ার সামর্থ্যটা তিনি রাখেন। খ্যাতনামা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের লেখনীকে পর্দায় তুলে ধরা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। পর্দায় সে রচনা ফুটিয়ে তুলতে পরিচালক Anam Biswas এর চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও খল চরিত্রে দারুণ ছিলেন Iresh Zaker! মুভির গতিময় স্ক্রিনপ্লে স্ক্রিন থেকে দর্শকদের চোখ সরতে দেয়নি এক মুহূর্তের জন্যও। এছাড়াও, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর মুভিটিতে যোগ করেছিল আলাদা মাত্রা।
বিশেষ করে, অনুপম রয়ের কণ্ঠে প্রেমমাখা “দু’মুঠো বিকেল” গানটি রহস্যময় গল্পকে পাশ কাটিয়েও তৈরি করেছিল ভিন্ন এক আবহ!
.
সব মিলিয়ে, দেবী শুধুই একটি মুভি নয়। বহুদিন পর, সপরিবারে হলে গিয়ে উপভোগ করার উপলক্ষ্যের নামই “দেবী – মিসির আলি প্রথমবার” 
.
সাহিত্য নির্ভর সিনেমা তৈরীতে এখনও আমাদের পরিচালকরা পুরোপুরি স্বাধীন হতে পারেননি। একটি মুভি তৈরীতে যে দীর্ঘ সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়, তার পুরোটা দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে হয় কয়েক ঘন্টার ফ্রেমে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই পরিচালকদের বাধ্য হয়ে অনেক ত্যাগই স্বীকার করতে হয়। কিন্তু, যখন সাহিত্য নির্ভর সিনেমা তৈরীর চর্চাটা নিয়মিত হবে, তখনই ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে দর্শক রুচি ও শ্রেণীতে। পরিচালকরাও তখন পাবেন পূর্ণ স্বাধীনতা। মেতে উঠবেন, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, সৃজন আর শৈলীর অপরুপ সমন্বয়ে তৈরি করবেন কালজয়ী সব চলচ্চিত্র।
.
#পরিবর্তন_আসবেই!
#মিসির_আলি
অক্টোবর ২১, ২০১৮

You may also like...

Leave a Reply