Bangladeshi Featured Reviews Movie Review

“দহন” – যত গর্জে তত বর্ষে না?

“দহন” গতকাল শ্যামলী হলের বিকেল ৫টা৩০ এর শোতে আবারো দেখে নিলাম “দহন”। সিনেমাটি দুইবার দেখার কারন প্রথমত “দহন” এর ফিল্মকাস্ট প্রমোশন ও ইভেন্ট করতে যেয়ে প্রথমদিন মনোযোগ দিয়ে দেখতে পারিনি। তাই গতকাল আবার দেখতে গিয়েছিলাম। দহনের প্রমোশনে এখনো সিয়াম, রায়হান রাফি সহ দহন টিম অনেক তৎপর দেখে ভালো লাগলো। এটা একটা ভালো দিক। দ্বিতীয়ত, লেখাটা পড়লে বুঝবেন। “দহন” কেমন ছিলো?

সিনেমার থিম সবাই জেনে গেছেন। পেট্রোল বোমা দিয়ে বাস পুড়িয়ে মানুষ মারার যে ঘটনার সাক্ষী আমরা দেশবাসি সেইটাই এই সিনেমার মূল প্লট। আমার এখনো মনে পড়ে মানুষ তখন ট্রল করে একটা মিম বের করেছিলো “মানুষের বারবি কিউ”। মনে আছে? ট্রলটা যে কি পরিমান বাজে এবং জঘন্য সেটা উপলব্ধি করতে পারবেন সিনেমাটি দেখলে। এক আগুন সন্ত্রাস “তুলা”কে কেন্দ্র করেই সিনেমার বাকি সব চরিত্র এক রেখায় এসে মিলিত হয়েছে। একজন লিডার যিনি কোনো বিশেষ দলের নন বরং একজন বড় ব্যবসায়ীই হবেন হয়তোবা তিনি করে বেড়াচ্ছেন এসব কাজ আর তাঁর আন্ডারে আরেকজন লিডার তুলার মত বস্তির কিছু সন্ত্রাসদের দিয়ে অল্পকিছু টাকার বিনিময়ে জ্বালাও পোড়াও করে ব্রেকিং নিউজ বানাচ্ছেন। আর এখানেই “দহন” সিনেমার আবেগ এসে জুড়ে বসেছে। সিয়াম আহমেদের মতে “সিনেমায় মোট ৪০টা ক্যারেক্টার আছে এবং সব গুলো ক্যারেক্টারকেই আলাদা আলাদা ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।” আমিও একমত, সিনেমায় প্রতিটি চরিত্রকেই খুব সুন্দর ভাবে বিল্ডাপ করে টেনে নিয়ে আসা হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র সিয়াম, পূজা, ফজলুর রহমান বাবু, মনিরা মিঠু , মম সহ বাকি প্রতিটি ক্যারেক্টারকে ভালো রকম সময় দেয়া হয়েছে। তাই ক্যারেক্টার বিল্ডাপের দিক থেকে সিনেমার স্ক্রিপ্ট ঠিক আছে। কিন্তু, সিনেমার প্লট অনুসরণ করে স্ক্রিপ্টের দিকে তাকালে, কিছু কিছু জায়গায় সিনেমার স্ক্রিপ্ট ভালো রকম খাপ ছাড়া মনে হয়েছে। বিশেষ করে নন লিনিয়ার ফরম্যাট ফলো করতে বেশ হিমসিম খেতে হয়েছে বলাই যায়। স্ক্রিন শিফটিং এবং গান প্লেসমেন্টে আরো যত্ন নেয়ার ব্যাপার ছিলো মনে হয়েছে। গান প্লেসমেন্ট নিয়ে আমি হয়তোবা ভালোভাবেই ধরতাম কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন সিনেমাটি দেখেছি দেখলাম “প্রেমের বাক্স” গানটি সড়িয়ে ফেলা হয়েছে যা অবশ্যই বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে। তাই আর আপত্তি তুল্লাম না। একটা ডার্ক পলিটিক্স বলতে যা বোঝায় জনরাগত ভাবে তেমন মনে হলেও এটাকে আমি শুধু পলিটিক্স জনরা বলবো, ডার্ক পলিটিক্স জনরা থেকে আমি আরো অনেক বেশী কিছু আশা করি। আর সিনেমার এডিটিং গত মাইনর কিছু ক্রুটি ছাড়া বাকি সবই ঠিক লেগেছে। স্ক্রিন টাইমিং সবাইকে দিতে হয়েছে তাই হয়তো দর্শক নন্দিত অনেক ক্যারেক্টারকেই কম দিতে হয়েছে ।

তাহলে কি “দহন” যত গর্জে তত বর্ষে না সিনেমা? “দহন” সিনেমা দেখতে বসে আপনি প্রথমেই মুগ্ধ হবেন সিয়াম আহমেদের অভিনয় দেখে। আপনি মুগ্ধ হবেন পূজা চেরিকে দেখে, ফজলুর রহমান বাবু, রাইসুল ইসলাম আসাদ, সহিদুজ্জামান সাচ্চুর মত জাত অভিনেতা থেকে শুরু করে ছোট্ট লক্ষির চরিত্রের অভিনয় দেখেও আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। সিনেমার ডায়লগ আপনাকে যেমন হাসাবে তেমনি কাঁদাবে, মাঝে মাঝে ক্ষোবের উদ্ভব ঘটাবে। লাস্ট এমনটা আমার কাছে মনে হয়েছিলো “বোঝে না সে বোঝে না” সিনেমা দেখে। রায়হান রাফি পরিচালক হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে রাজ চক্রবর্তীর মত প্যাটার্ন ফলো করেন কিনা আমি জানিনা তবে যাই করছেন আমার মতে ভালো দিকেই এগোচ্ছেন। সিনেমার ড্রোনের শট ইউজ করা এবার ইউজলেস মনে হয়নি, বিজিএম পারফেক্ট ছিলো এমন কি আমার কাছে ” হাজির বিরিয়ানি ” এর নতুন ভার্শনও মজা লেগেছে। তবে বিজিএম এ সংগৃহীত কালচার থেকে বের হয়ে মূল ক্রেডিট দিয়ে কিংবা প্রয়োজন হলে নতুন মৌলিক মিউজিকের দিকে যেতে বলবো। তবে সিনেমেটোগ্রাফির দিক থেকে আরো কাজ করা যেত। ছোট ছোট ডিটেইলস ও ডিওপি ছাড়েননি সিনেমেটগ্রাফির ক্ষেত্রে তবুও পোড়ামন ২ কে এগিয়ে রাখবো এদিক থেকে। পরিচালক রায়হান রাফি’র জন্য থাকবে শুভ কামনা। আর পুরো সিনেমা বিবেচনা করলে অবশ্যই “দহন” সিনেমা আপনার দেখা উচিত আর সেটা একাধিকবারই দেখতে পারেন যদি ইচ্ছে হয়। কারন সিনেমাটা যেমন ভালো তেমনি রিলেটেবল। আপনি সিনেমার সাথে নিজেকে রিলেট করতে পারবেন। আতঙ্কিত হবেন, ভয়াল সেই সময়ের কথা মনে করে কেঁদেও দিতে পারেন। অনেকেই সিনেমা দেখে কেঁদেছেন, হয়তোবা সিনেমার সাথে তাঁরা নিজেদের খুব গভির ভাবে রিলেট করতে পেরেছেন বলেই কেঁদেছেন। তাই তাঁদের কান্না নিয়ে সেটাকে এক্সাজারেট করে মজা নেয়াটাকে আমি সত্যি এপ্রেশিয়েট করছিনা।

সিনেমাটি নিয়ে যখন কিছু সময় ব্যয় করে লিখছি তখনো সিনেমার হাউজ ফুল যাচ্ছে। তারমানে সিনেমাটি দর্শক মহলে সমাদৃত এবং খুব ভালো ভাবেই গৃহীত একটি সিনেমা হয়ে গেছে। আমি নিজেও সাক্ষী, সিনেমা দেখার সময় মানুষ যেভাবে হাততালি ও মুখ দিয়ে চিল্লাপাল্লা ও শিস বাজিয়েছে সেটা অনেকদিন হয় সিনেমা হলে দেখা যায়নি। দেশে “দহন” এর মত রিলেটেবল কন্টেন্ট নির্ভর সিনেমা আরো চাই এটাই বলে আমার লিখা শেষ করছি। সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখবেন, ভালো খারাপ লাগা জানাবেন তবুও বাংলা সিনেমার জয়কারের পাশেই থাকবেন। আমরা না থাকলে কে থাকবে বলেন?

ধন্যবাদ।
অবয়ব সিদ্দিকী

You may also like...

Leave a Reply