Bangladeshi Featured Reviews Movie Review

কতটুকু সফল আলোচনার শীর্ষে থাকা যদি একদিন?

যদি একদিন, গত কয়েকদিন ধরে যদি একদিন চলচ্চিত্র পাড়াতে টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। কখনো পজেটিভ নিউজ দিয়ে, কখনো নেগেটিভ রিভিউ দ্বারা, কখনো বা প্রমোশনাল বানিজ্যের নামে ভাউতাবাজি কথা বলে। যেভাবেই হোক তাহসান খান ও শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি অভিনীত যদি একদিন কোন না কোন ভাবে আলোচনাতে ছিল এটা আমাদের মেনে নিতেই হবে।

একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে যে সমস্যাটি হয়, তা হল চলচ্চিত্রটি নিয়ে তেমন কথা হয় না। যদি একদিন অন্তত পক্ষে সে দিক থেকে বেশ সফল। যদি একদিন নিয়ে হয়েছে আলোচনা, হয়েছে সমালোচনা, হয়েছে কট্টরভাবে বিশ্লেষণ। কারো কারো কাছে হয়েছ মাস্টারপিস আবার কারো কাছে ঠিক সেভাবে লাগেনি যাকে বলে বিলো এভারেজ। সেই যদি একদিন নিয়েই আজকে কথা বলব। কথা বলব বললে ভুল হবে, চলচ্চিত্রটিকে নিয়ে একটি সামগ্রিক আলোচনা করতে চাই। আসলে কেমন ছিল যদি একদিন। যদি একদিন কি আসলেই এতোটা ভালো হয়েছে? যে যারা মাস্টারপিসের খেতাব দিয়েছেন , তারা আসলেই ঠিক বলছেন? নাকি ঠিক ততটাই বাজে হয়েছে যতটা বলছেন কয়েকজন?

যদি একদিন ভালো না খারাপ তা বিচার বিশ্লেষণ করার আগে আমাদের একটু ফিরে যেতে হবে অতীতের কিছু চলচ্চিত্রে। অতীতের চলচ্চিত্রগুলোতে ফিরে যাবার কারণ হল, নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ মুক্তির আগেই বলে দিয়েছিলেন এটি একটি পারিবারিক চলচ্চিত্র। বাবা মেয়ের আবেগঘন ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে চলচ্চিত্রটি এগিয়ে চলেছে এবং সেখানে হুট করেই আবির্ভাব হয় অরিত্রি চরিত্রের। অরিত্রি চরিত্রটি কি আসলেই পারবে বাবা মেয়ে মাঝে চলে আসতে নাকি অরিত্রি বাবা মেয়ের ভালোবাসার মাঝে একটা স্মৃতি হয়েই থেকে যাবে? মূলত এভাবেই বলা হয়েছে গল্পের পটভূমি। আসলে কি হয়েছিল তা জানতে হলে প্রেক্ষাগৃহে চলে যাবেন এ আলোচনা পড়ে যদি আপনার মনে হয়, হ্যা চলচ্চিত্রটি দেখা উচিত তাহলে।

পারিবারিক চলচ্চিত্রের কথা বললেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে রাঙ্গা ভাবী, এই ঘর এই সংসার, বড় বৌ, মেঝো বৌ এর মত চলচ্চিত্র গুলো। কিংবা কোলকাতার বৌ সিরিজের যত চলচ্চিত্র আছে সেগুলো। আবার বাবা মেয়ের মধ্যে ভালোবাসার কথা চিন্তা করলে সাথে সাথে মনে চলে আসে কাজী হায়াৎ পরিচালিত বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘দি ফাদার’ এর কথা। কিন্তু এসব চলচ্চিত্রের একটি প্যাটার্ন আছে যা থেকে যদি একদিন চলচ্চিত্রটি খুব বেশি দূরে অবস্থান করেছে। তাই আপনি যদি বড় বৌ কিংবা রাঙ্গা ভাবীর মত পারিবারিক চলচ্চিত্র দেখতে যেতে চান কিংবা এই ঘর এই সংসারের মত পারিবারিক মূল্যবোধ খুজতে চান তাহলে চলচ্চিত্রটি দেখে আপনি আসলেই হতাশ হবেন। কারণ এখানে সে রকম কোন কূট বুদ্ধির খেলা দেখানো হয় নি কিংবা দেখানো হয়নি বৌ এর চাহিদা পূরণের জন্য পরিবারের ভালো ছেলেটির নষ্ট হয়ে যাওয়া। চলচ্চিত্র পুরোপুরো একটি বাবা মেয়ের ভালোবাসার উপর নির্মিত। যে ভালোবাসায় কোন বিচ্ছেদের গন্ধ নেই। তাই এখানে থ্রিল খুজতে চাওয়া বোকামি হবে।

যদি একদিনের স্টোরি টা প্রথম হাফে বেশ স্লো মনে হলেও, গল্পের প্লট তৈরী করার জন্য ঠিকঠাকই ছিল বলে মনে হয়েছে। যারা রাশিয়ান কিংবা স্প্যানিশ চলচ্চিত্র দেখে অভ্যস্ত তাদের কাছে খুব একটা বোরিং মনে হবে না চলচ্চিত্র শেষ করার পর। কারণ এ ধরনের চলচ্চিত্রগুলোতে বেশিরভাগ সময়ে শেষ দিক খুব বড়সড় টুইস্ট দিয়ে রাখে যা আপনাকে আবার পুরো সিনেমাকে ভাবতে সাহায্য করবে। যদি একদিন যদিও সেভাবে আপনাকে ভাবাবে না কিন্তু ২য় অর্ধে আপনি একটু নড়েচড়ে বসবেন এ কথা বলা যায়। তবে চিত্রনাট্যে যদি প্রথম অর্ধে কিছুটা সাসপেন্স রাখা যেতো তাহলে হয়তো যারা থ্রিলার চলচ্চিত্রের প্রতি বেশি আগ্রহী তাদের মনোযোগ আরো বেশি আকর্ষণ করা যেতো। হয়তো পরিচালক তার টার্গেট অডিয়েন্সের কথা বিবেচনা করে সেভাবে গল্পটিকে সাজায়নি। তবে পরিচালক কিংবা চিত্রনাট্যকারের কাছে অনুরোধ কিংবা সাজেশন থাকবে তিনি যেন পরবর্তীতে এ ধনের অডিয়েন্সের কথা বিবেচনা করেন। তবে অফিসের দৃশ্যগুলো মাঝেমাঝে বিরক্তির কারণ হয়েছে পার্শ্ব অভিনেতাদের জন্য।

অভিনয়ে তাহসান একদম তার স্বভাবসুলভ অভিনয় করে গিয়েছেন, এক্সট্রা কোনকিছু করার কোন চেষ্টা তিনি করেননি। যেটা আমার কাছে বেশ ভালো মনে হয়েছে। কেননা অনেকেই প্রথম চলচ্চিত্রে এসে এক্সপ্রেশন বেশি দিতে গিয়ে খুব বাজে কিছু করে ফেলে। সেদিক থেকে তাহসান খুব ভালো করছে নিজের স্বভাবসুলভ অভিনয়টি করে। যদিও কিছু কিছু সিরিয়াস ক্ষেত্রে এক্সপ্রেশন একটু কম লেগেছে। আশা করছি তিনি নিজেই চলচ্চিত্রটি দেখে পরবর্তীতে চেষ্টা করবেন আরো ভালো কিছু করার। আমার মতে তাহসান প্রথম চলচ্চিত্র হিসাবে ভালোভাবেই উতরে গিয়েছেন। শ্রাবন্তী যতটা সময় স্ক্রিনে ছিলেন নিজের স্বভাবসুলভ অভিনয় করেছেন। তাসকিন ঠিক ঠাক আছে। তবে ঢাকা অ্যাটাকের রেশ টা তার মাঝে এখনো রয়ে গেছে। প্রেমিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আর একটু কাজ করা উচিত বলে মনে হয়েছে আমার। শিশু শিল্পী রাইসার চঞ্চলতা বেশ ভালো লাগবে।







যদি একদিন চলচ্চিত্রটি মোস্তফা কামাল রাজের এখন পর্যন্ত সেরা মেকিং এর কাজ (অন্য কাজগুলোর সাপেক্ষে বলা যায়)। অন্তত এবারের কাজের মধ্যে দৃশ্যের কন্টিউটি বেশ ভালো পরিলক্ষিত হয়েছে। গানগুলো ঠিকঠাক মত দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের দৃশ্যগুলো দারুণভাবে স্যুট করা হয়েছে। সো টেকনিক্যাল দিক থেকে মোটামুটিভাবে সফল বলা যায়। যদিও সাউন্ড প্লেসমেন্টে কিছু সমস্য ছিল, তাসকিনের গানের সময় লিপসিং মিলে নি। এছাড়া এরোপ্লেনের ভিএফএক্স টা ছিল বেশ খারাপ। এটা চাইলেই বাদ দিয়ে কাজ করা যেতো আমার মনে হয়েছে। কালার গ্রেডিং আপ টু দ্য মার্ক না হলেও বেশ ভালো বলা চলে। আসলে কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে এখনো আমাদের বাংলা ছবির কালার গ্রেডিং এখনো ফিল্ম মাপেরও হয়ে উঠেনি। এখনো আমরা অনেক পিছিয়ে, কিছু ব্যতিক্রম বাদে। তাই কালার গ্রেডিং নিয়ে এখন তেমন আলোচনা করি না। তবে আশাকরি ধীরে ধীরে আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবো। সব মিলিয়ে ছোটখাটো ভুলত্রুটিগুলো ধরলে টেকনিক্যাল দিক থেকে যদি একদিন ডিসেন্ট কাজ করেছে।

যদি একদিন খুব বেশি ভালো চলচ্চিত্র সেটা নয়, কিন্তু খুব বাজে কিংবা বস্তাপচা চলচ্চিত্র সেটা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। শিল্পমান বিচারে খুব ওয়াও মানের চলচ্চিত্র না হলেও যদি একদিন হয়তো কোন কোন বাবার চোখে পানি এনে দিয়েছে কিংবা প্রবাসে থাকা কোন বাবাকে তার মেয়ের কথা মনে করিয়ে দিবে বারবার। যদি একদিনের সফলতা এখানেই। যদি একদিন পরিবার নিয়ে দেখার মত চলচ্চিত্র, যা দেখার পর প্রতিটি সিঙ্গেল বাবাকে মনে হবে একটি সুপারম্যান। গল্প, গান, অভিনয়, দৃশ্যায়ন সব মিলিয়ে যদি একদিন আপনি চাইলেই দেখতে পারেন যদি আপনি সুস্থ ধারার বাংলা চলচ্চিত্রে পারিবারিক জনরা পছন্দ করে থাকেন।

গ্রেডঃ B

গ্রেড সম্পর্কে জানার ইচ্ছা থাকলে এই লিংক ফলো করতে পরেন। প্রতিটি গ্রেড নিয়ে বলা আছে।

https://www.filmjabber.com/movie-ratings/

You may also like...

Leave a Reply