Bangladeshi Featured Reviews Movie Review

মেলোড্রামার সুস্থ উপস্থাপন “যদি একদিন”

সিনেমার মুক্তির ৪ দিন গড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত সিনেমাটির পজেটিভ-নেগেটিভ রেসপন্স দুটোই পাওয়া গেছে। আর এই হচ্ছে প্রমাণ যে, সিনেমাটি আসলে দেখার মতো কিছু একটা হয়েছে। কারণ একটি সিনেমার যখন পজেটিভ ও নেগেটিভ দুই রেসপন্সই পাওয়া যায় তখন আসলে দর্শকদের সামনে সিনেমা দেখে বিচার করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা। আর এটাই হওয়া উচিত। কোনো কাজ করলে সেটা নিয়ে সমালোচনার চর্চা থাকতেই হবে নাহলে পরবর্তীতে আরও ভালো কাজ আসবে কীভাবে? তবে সমালোচনার কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপার থাকে যেটা আমাদের দেশের সমালোচকরা এখনো আয়ত্ব করতে পারেনি বলেই আমার ধারণা। আর সেই সমালোচনাকে গ্রহণ করার মানসিকতাও নির্মাতারা এখনো পুরোপুরি করে উঠতে পারেনি। তাই গাঠনিক সমালোচনা করার চর্চা লাগবে। যাইহোক, এসব নিয়ে কথা না বলে আমি নাহয় সিনেমা নিয়ে কিছু কথা বলে আমার লেখা শেষ করি।

যদি একদিন, মেলোড্রামা জনরার সিনেমা। মেলো ড্রামা বলতে আসলে কী বোঝায়? মেলোড্রামা বলতে বোঝায়, এমন একটি গল্প যা কিছু চরিত্র, মিউজিক ও দৃশ্য দ্বারা নাটকীয় আবহ তৈরি করবে। আবার ভেবে বসবেন না যে, তাহলে তো এটা নাটক, সিনেমা না। আসলে মেলোড্রামা সিনেমার একটি ক্যাটাগরি মাত্র। ক্যাটাগরি ওয়াইজ এই জনরার সিনেমা গুলো একটু আলাদা। এই সিনেমাগুলোর মূল শক্তি হয় এর গল্প, অর্থাৎ গল্পই এসব সিনেমার হিরো। যদি একদিন তেমনই একটি গল্পে বানানো সিনেমা। গল্পের মূল চরিত্র রূপকথা। ৭ বছর বয়সী একটা বাচ্চা মেয়ে, রূপকথা, যার এই জগতে বাবা আর দাদীই সব। মা নেই। বাবা ফয়সাল, অফিস এবং রূপকথা বাদে কিছুই যেন বোঝে না। সেই অফিসে অরিত্রী নামের একজন সুন্দরী আসেন ফয়সালের কলিগ হয়ে। আর এই অরিত্রীকে নিয়ে কক্সবাজারে এক প্রজেক্টে ফয়সালের কাজ করতে যেয়ে রূপকথার সাথে পরিচয় হয় অরিত্রীর। রূপকথার মতো মা ছাড়া বাচ্চা একটা মেয়ে অরিত্রীর মধ্যে নিজের মাকে খুঁজে নিবে এটাই তো স্বাভাবিক? আর গল্প সেভাবেই এগোয়। রূপকথা বায়না ধরে বসে অরিত্রীকে সে তাঁর মা বানাবে। কিন্তু ফয়সাল তাতে রাজি থাকে না, কারণ সে চায়না তাঁদের বাবা-মেয়ের মাঝে আর কোনো ঝড় আসুক।







এখন আপনারা ভাবতে পারেন সিনেমার বাকি অংশ হয়তোবা এসব নিয়েই। হয়তো তাসকিনের সাথে অরিত্রীর বাবা-মা বিয়ে ঠিক করাবে, অরিত্রী রাজি থাকবেনা, কিংবা ফয়সাল আবার অরিত্রীর প্রেমে পড়বে সেটা নিয়ে কিছু টুইস্ট হবে গল্প এগোবে তারপর শেষ, যেমনটা হয় আরকি। কিন্তু এখানেই বাজিমাত করে দিয়েছে সিনেমার গল্প এবং প্লট। সিনেমার গল্প এখানে এমনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যে সিনেমার গল্প নিয়ে আপনার কোনো রকম আক্ষেপই থাকতে দিবেনা। এমনকি সিনেমা এতক্ষণ যা দেখে যা ভেবেছেন সব ভুলে আপনি ডুবে যাবেন সিনেমার মধ্যে। আর এখানেই সিনেমার সার্থকতা। আর তাই সেটা বুঝতে সিনেমাটি দেখতে হবে।




সিনেমায় বিজিএম ছিলো পছন্দসই, সিনেমার ফ্রেম টু ফ্রেম কাজ ভালো হয়েছে, সিনেমেটোগ্রাফী নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে, কালার গ্রেড নিয়ে আমাদের দেশের সব সিনেমাতেই আপত্তি থাকবে এবং সেটা এখানেও আছে। তবে এভারেজের থেকে অনেক ভালো গ্রেডিং ছিলো, অভিনয়ের দিক থেকে তাহসান খান এর প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে পাশ দেয়াই যায় কিন্তু তাহসান খানকে সিনেমা নায়ক হিসেবে আরো অনেক কাজ করতে হবে। তবে তাসকিন!!! মাই গড তাসকিন রহমান… মানে ফাটিয়ে দিয়েছে ছেলেটা। হি ইজ সামথিং। অভিনয় দিয়ে পুরো জমিয়ে দিয়েছে। স্ক্রিনে যতক্ষণ ছিলো পুরো স্ক্রিন জুড়ে ছিল মুগ্ধতা। শ্রাবন্তীকে ভালো লেগেছে যদিও মনে হয়েছে ওনার চরিত্র নিয়ে হয়তোবা আরো একটু খেলা করা যেত।




স্ক্রিপ্ট তুলনামূলক ভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে দুর্বল। কারণ ব্যক্তিগতভাবে আমাকে দিলে আমি স্ক্রিপ্টের প্রথম দিকে অনেক কিছু রাখতাম তাতে যে দর্শকগুলো সিনেমার প্রথম হাফ নিয়ে কমপ্লেইন করেছে সেটা আর হতো না। আরো স্পেসিফিকভাবে বললে আমি প্রথম দিকে স্ক্রিপ্টে হয়তোবা তাসকিনের একটু লাইফ স্টাইলো দেখাতাম তাতে সিনেমা প্রথম থেকেই জমে থাকত। কিন্তু প্রতিটা মানুষের আলাদা দর্শন থাকবেই। হয়তোবা সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখকের ব্যাপারটা এভাবেই দেখাতে ভালো লেগেছে। তাই সেটাকেই সম্মান জানাচ্ছি আর আমার এই লেখা শেষ করছি।




সিনেমার কিছু লেয়ার যেটা দৃশ্যত তার থেকেও গভীর কিছু লেয়ারে সিনেমার কিছু ব্যাপার অদৃশ্যত রয়ে গেছে, খুব গভীর ভাবে সেগুলো বোঝার চেস্টা না করলে দর্শক আসলে সেগুলো ধরতে পারবে না বোধকরি আর আমাদের সাধারণ দর্শক এতটা গভীরভাবে আসলে সিনেমা দেখেনা। তাই দর্শকের কাছে সব স্পষ্টত ফুটিয়ে তোলাটাই শ্রেয় বলে মনে করি আমি। হয়তো পরিচালক সিনেমায় গভীরতাকে গভীরভাবেই দেখাতে চেয়েছেন, তাই সেই জায়গা থেকেই দর্শকদের একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে শেষ করবো লেখা। বলতে পারবেন আমি সিনেমার কোন অদৃশ্য লেয়ারের কথা বলছি? যারা গভীরভাবে দেখেছেন তারাই শুধু বুঝবেন। তবে স্পয়লার দিবেন না।

যেহেতু এত বড় লেখা লিখে ফেলেছি তাহলে বুঝতেই পারছেন যদি একদিন দেখার মতো সিনেমা নিঃসন্দেহে তাই সিনেমাটি দেখা উচিত আর সিনেমাটি দেখে ভালো লাগলে বুঝবেন দেশের সিনেমা চিরায়িত পথে মোড় ঘুড়ে দাঁড়াচ্ছে। সময় হয়েছে, যদি একদিন ভালো লাগলে, আমরাও নতুন নতুন জনরার সিনেমা পাবো বলে আশা করতেই পারি। তাতে নির্মাতারাও সাহস পাবে। তাই যদি একদিন বাংলা সিনেমার নতুন মাইলফলক হয়েই থাকবে বলে বোধ করি।

 

You may also like...

Leave a Reply