Bangladeshi Featured Movie News

যেভাবে তৈরি হয়েছে Surviving 71

ইউটিউবে প্রকাশ পেল হলিউডে নানান বিগ বাজেট ম্যুভির প্রোডাকশন এবং ভিজ্যুয়াল এফেক্টে কাজ করা ওয়াহিদ ইবনে রেজার অ্যানিমেটেড ফিল্ম ” Surviving 71″ এর টিজার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে 2D ফরমেটে করা এই ফিল্মটির কাহিনীর অংশবিশেষ দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটা একটা মাইলফলক হতে যাচ্ছে আমাদের সিনেমা জগতে।

#Surviving71 নিয়ে বিস্তারিত:

Wahid Ibn Reza  এ ব্যাপারে বলেন- 

“এনিমেশন মুভিতে হঠাৎ হঠাৎ খুব সহজ কাজটা কেন যেন খুব জটিল হয়ে যায়। শ্রেক এর ডিরেক্টরদের যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে সবচেয়ে কঠিন শট কি ছিল তাদের ফিল্মে, তারা বলে, বোতলের দুধ খাবারের দৃশ্যটি! কারণ কোন ভাবেই দেখতে বাস্তব মনে হচ্ছিল না। ভাবা যায়? কত রকম কাল্পনিক রূপকথার জন্তু জানোয়ার তারা করে ফেললো অথচ তরল দুধ বানাতে গিয়ে এই অবস্থা! পরে আমি অবশ্য নিজের চোখেই এমন উদাহরন দেখি। হোটেল ট্র্যানসেলভেনিয়ার তৃতীয় পর্ব, সামার ভ্যাকেশনে কাজ করার সময় দেখেছি সব চেয়ে সময় লেগেছে কাউন্ট ড্রাকুলার মুখে শ্যাম্পেইন ছুড়ে মারার দৃশ্যটি করতে। এক পর্যায়ে এনিমেশন সুপার ভাইজারকে দাঁড় করিয়ে রেখে তার মুখে শ্যাম্পেইন ছুড়ে মারা হয় গ্লাসের পর গ্লাস। সেটা আবার ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। সেই দৃশ্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে পরে শটটা ফাইনাল হয়। আমি মনে মনে বলেছিলাম, বিশাল বড় অক্টপাস থেকে শুরু করে পানির নিচের আটলান্টিক শহর বানিয়ে ফেললো, অথচ শ্যাম্পেইনে এসে কাত, এটা কোন কথা! অথচ এরকমই হয়। একটা প্রচলিত কথাও আছে, সহজ শট বলে কিছু নেই। যদি কোন কিছু দেখে মনে হয় সমস্যা হতে পারে, জেনে রেখে সমস্যা হবেই!

তাই ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে যখন আমি মুক্তিযুদ্ধের এনিমেশন ছবি বানাবো বলে ঘোষণা দিলাম, এবং ১৫ মিনিটের শর্ট ফিল্মের জন্য স্ক্রিপ্ট লিখে শেষ করলাম, আমার মাথায় প্রথম যেই কথাটা আসে তা হচ্ছে, দেখি এখন কি কি সমস্যা হয়। প্রথম সমস্যা হচ্ছে আমি নিজে তো আঁকতে পারিনা। আমার টিম তৈরী করতে হবে। প্রথমে তৈরী করতে হবে কনসেপ্ট। চরিত্র, প্রপ্স থেকে শুরু করে নানা রকমের ডিজাইন। তারপর স্টোরিবোর্ড। এনিমেশনের ফিল্ম বানানোর এই ধাপটাকে বলে প্রি-প্রোডাকশন। তো একটা বেশ ভাল টিম দাঁড় করানো হলো। কিন্তু যেহেতু এরকম একটা প্রজেক্টে বেশ সময় দিতে হয়, এবং অনেকের অনেক রকম কমিটমেন্ট থাকে, টিম থেকে সরে গেল বেশ কয়েকজন। থেকে গেল, প্রোডাকশন ডিজাইনার শরিফুল ইসলাম তামিম (Shariful Islam) আর কনসেপ্ট আর্টিস্ট নাভিদ এফ রাহমান (Navid F. Rahman)। আমরা তিনজন মিলেই কাজ শুরু করলাম প্রাথমিক ডিজাইনের। প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে কি রকম হবে এনিমেশনের স্টাইলটি। রঙের প্যালেট কি রকম হবে, ব্যাকগ্রাউন্ড কি রকম হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি খুব ডিটেইল ভাবে শেয়ার করলাম তামিম এর সাথে। আমাদের লক্ষ্য আমরা প্রথমে দেড় মিনিটের একটা ফার্স্ট লুক টিজার বানাবো। যা দেখে দর্শক সিনেমার ধরণ, এনিমেশনের ধরণ ইত্যাদি বুঝতে পারবে। এবং সেটা দেখিয়ে আমরা ১৫ মিনিটের জন্য ফান্ডিং চাইতে পারবো।







সে হিসেবেই কাজ শুরু করা। ব্যাকগ্রাউন্ড এর জন্য রেফারেন্স হিসেবে দেখলাম বাংলাদেশের ল্যান্ডস্কেপ এর ছবি। যা থেকে রঙের প্যালেটেরও একটা ভাল ধারণা হয়ে গেল। চরিত্রের ডিজাইন করতে গিয়ে পড়লাম মুশকিলে। কেন যেন কিছুতেই হচ্ছিল না। চুল, চোখ, পোশাক আশাকের ধরন, মিল ছিলনা একদম। তখন আমরা ১৯৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি দেখা শুরু করলাম। এনিমেশন মুভিতে কনসেপ্ট কিন্তু আঁকা হয় বাস্তব মডেলের উপর ভিত্তি করে। ঠিক করলাম আমরাও সেটাই করবো। এতে একটা ট্রিবিউটও জানানো যাবে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পরই টিজারের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজাইনটা সহজ হয়ে গেল। বন্দুক, গুলি, যানবাহন ইত্যাদি রেফারেন্সও টানলাম মুক্তিযুদ্ধের ছবি থেকে। আর পাকিস্তান আর্মিদের জন্য সম্পূর্ণ অন্যরকম ভাবে চিন্তা করলাম। যা কিনা আপনারা টিজারে দেখবেন। ডিজাইনের পুরো কাজটা একাই করলেন তামিম। টরন্টো বসে লোগো এবং থিমেটিক পোস্টার করলো নাভিদ। এরপর কাজ শুরু হলো স্টোরীবোর্ডের। আমি দৃশ্য ধরে ধরে শট লিস্ট করে দিলাম। সেটা অনুযায়ী প্রথমে রাফ স্কেচ এবং পরে ফাইনাল স্কেচ করলেন তামিম। একই সাথে করে ফেললেন ব্যাকগ্রাউন্ড এবং এনিমেটিকের কাজ। এবং সেই সাথে শেষ হলো প্রি প্রোডাকশনের ধাপ।




এরপর প্রোডাকশন! সাউন্ড ও মিউজিকে প্রথমে কিছু রাফ ট্র্যাক করে সাহায্য করলো তনয় (MD Ariful Haque)। পরে সাউন্ড ডিজাইনার হিসেবে দলে যোগ দিল, রাজেশ সাহা (Rajesh Saha) এবং রিপন নাথ ভাইয়ের স্টুডিও সাউন্ডবক্স। অনেক কষ্ট করে, ক্ষেত্র বিশেষে ভয়েস আর্টিস্টদের বাসায় বা অফিসে গিয়েও রেকর্ড করে আসলো রাজেশ। খুব চমৎকার সাউন্ড ডিজাইন এর কাজও করলো সে। এদিকে পাশাপাশি মিউজিকে সাহায্যের হাত বাড়ালো, মেঘ দলের গিটারিস্ট এবং ষ্টুডিও কাউবেলের কর্ণধার শোয়েব (Rasheed Sharif Shoaib) । চৎমকার একটা মিউজিক বা আবহ সংগীতও দেখতে দেখতে তৈরী হলো। এদিকে ততক্ষনে এনিমেশন টেস্ট শুরু হয়ে গেছে। কাজটি করছে মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন আরিফ (Mohammad Shihab Uddin)। অনেক পরিশ্রম করলেন তিনি ও তার দল। মুরাদ (Murad Talkin) কে নিয়ে সাইকোর স্টুডিওতে নিজের থ্রিডি দল নিয়ে একটা ট্রেইন এর মডেল তৈরী করলেন আমাদের জন্য। করলেন টুডি টেস্ট। কিন্তু প্রায় বেশ কয়েক মাস পরীক্ষা নিরীক্ষার পর যেটা বোঝা গেল, যে রকম এনিমেশন চাচ্ছি তা বাংলাদেশে করতে গেলে অনেক অনেক সময় দিতে হবে। এদিকে ততদিনে এক বছরের বেশি সময় চলে গেছে। কয়েক মাসের মধ্যে টিজার শেষ করার কথা! যখন বুঝতে পারলাম বাংলাদেশে এনিমেশনের অংশটুকু করতে পারছি না, তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছোট ছোট এনিমেশন স্টুডিওদের সাথে যোগাযোগ করলাম। অবশেষে কানাডার হ্যালিফ্যাক্সের একটি এনিমেশন ষ্টুডিও, স্টেলার বোর নাম, আমাদের সাথে যুক্ত হলো এনিমেশন করতে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হলো পুরোদুস্তর এনিমেশন প্রোডাকশন।




সারভাইভিং ৭১ নামের আমাদের এই শর্ট ফিল্মটিতে মূল চরিত্রে থাকছেন, জয়া আহসান (Jaya Ahsan), মেহের আফরোজ শাওন (Meher Afroz Shaon), তানযীর তুহিন (Tanzir C Tuhin), গাউসুল আলম শাওন (Gousul Alam Shaon), সামির আহসান (Samir Ahsan), অনিক খান (Anik Khan) ও ওয়াহিদ ইবনে রেজা, মানে আমি নিজে। এ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ শর্ট ফিল্মের জন্য মেহের আফরোজ শাওনের ভয়েসটি রেকর্ড করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগস্ট মাসের মধ্যে বাকি সবার ভয়েস নেয়া হবে। এছাড়া টিজারে অতিথি ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে থাকছেন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (Mostofa Sarwar Farooki), আরিফ আর হোসেন (Arif R Hossain), সাদাত হোসাইন (Sadat Hossain) এবং কাজী পিয়াল (Pial Kazi)। পূর্ণাঙ্গ শর্ট ফিল্মটিতে অতিথি ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে থাকবেন আরো অনেকেই। যা পরে যথাসময়ে জানিয়ে দেয়া হবে। সব কিছু ঠিকঠাক মত হলে আশা করা যায় আসছে ২৬শে মার্চ, ২০১৯ এ ইউটিউবে আমরা দেড় মিনিট লম্বা টিজারটি দেখতে পাব। আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছি দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখতে। আশা করছি আপনাদের সহযোগিতায় এবং সমর্থনে আমরা ইউটিউবে আমাদের ভিডিওটি ট্রেন্ডিং করাতে পারবো। এবং তার মাধ্যমে শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও আমরা চাইতে পারবো ফান্ডিং। আপনাদের কৌতূহলে আগুনে আরেকটু ঘি ঢালার জন্য সংযুক্ত করলাম কনস্পেট আর্ট এবং ছবি থেকে নেয়া স্থির চিত্র। তাহলে দেখা হচ্ছে, ২৬শে মার্চ, স্বাধীনতা দিবসে।”




ট্রেইলার লিংক-

Surviving 71 – Teaser

একাত্তর নিয়ে প্রথম বড় কোনো কাজ হচ্ছে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে। প্রতিটা ফ্রেমের পেছনে লুকিয়ে আছে আবেগ আর কঠোর পরিশ্রম!পরিচালক ওয়াহিদ ইবনে রেজাকে উৎসাহিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। টিজারটি দেখুন এবং শেয়ার করুন।Watch on YouTube- https://youtu.be/0jx3-pRmMdo

Julkaissut FilmCast Maanantaina 25. maaliskuuta 2019

ইউটিউবে দেখতে চাইলে-

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *