Bangladeshi Review

“২০১৯: দর্শকপ্রিয় সেরা ১০ নাটক”

বছর ঘুরেফিরে দেখলে জমজমাট ছিল আমাদের নাট্য ও চলচ্চিত্র জগৎটা। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে তৈরি হয়েছে অসংখ্য নাটক টেলিফিল্ম।

 

এই বছরে রোমান্টিক নাটকের আধিক্য থাকলেও এবার বেশিরভাগ নাটক নির্মাণ করা হয়েছে জীবন-ঘনিষ্ঠ গল্প থেকে, যে গল্পের কোনো পাতায় হয়তো একটা চরিত্র আপনি নিজেই।  এবং প্রতিবারের মতো এবারো ফিল্মকাস্ট থেকে নির্বাচন করা হয়েছে সেরা ১০টি নাটক এবং আলোচনার শীর্ষে থাকা আরও কিছু নাটককে।

 

১. এই শহরে

দুটো মানুষের হসপিটাল থেকে বাচ্চা চুরি করে পাচার করে দেওয়ার কাজ।

একবার বাচ্চা নিতে দেরি হওয়ায় তাদের বাচ্চার লালন পালন করতে হয়।

এই বাচ্চাকে লালন পালন করতে গিয়ে মেহজাবিন কখন যে টান অনুভব করেন। সেখান থেকে গল্পটা এগিয়ে যায়।

সাম্প্রতিক কালের ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে নাটক। কিছুদিন আগেই ছেলেধরা গুজবে সারাদেশ নড়ে উঠেছিল। আশফাক নিপুণ বাস্তবতার ছোঁয়াচে নাটক বানিয়ে নির্মানের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। মেহজাবিন চৌধুরি অভিনয়ে বেশ পরিনিত। শেষ সিকোয়েন্সে সে তার ক্যারিয়ার সেরা অভিনয়টা দেখিয়েছে। দেখতে দেখতে কখন যে চোখ ভিজে যাবে টেরই পাবেন না। পাশাপাশি মেহজাবিনকে দারুন সঙ্গ দিয়েছে আফরান নিশো।

এই বছরে মিস শিউলি, আগন্তুক নাটকেও আশফাক নিপুণ তার কনটেন্টে নিপুণতা দেখিয়েছে।







২. কিংকর্তব্যবিমূঢ়

এক যাদুকর তার যাদুর খালি বাক্সে যাদু দিয়ে আপেল, কবুতর এগুলো আনত। হঠাৎ করেই একদিন তার যাদুর বাক্সে একটি ছোট্ট মেয়েকে আবিষ্কার করে। সবাই তার এই যাদুর প্রশংসা শুরু করে, ভালোলাগা তৈরি হয় সেই যাদুকরের মনে। তবে আস্তে আস্তে মিথ্যে ভালোলাগাটা যেন যাদুকরের মনে বিদ্রোহ শুরু করে দেয়। এভাবে শুরু হয় ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ এর গল্প।

অভিনয়ে চঞ্চল চৌধুরীর অনেকদিন একটা অভিনয় দেখানোর মত ক্যারেক্টার ,তিশা ছিল তার মতোই  ।মামা- মামীর চরিত্রে সোহেল খান- গুলশান আরা দুইজনের কঠিনতার মাঝেও হাসির উদ্রেক এনেছেন নির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমি। 




৩. আশ্রয়

সন্তান এডপ্ট করার ঘটনা অহরহ থাকলেও বাবা এডপ্ট করার ঘটনা ঘটেনা। যদি এমনটা হতো কেমন হতো? বৃদ্ধাশ্রমে কাটানো মানুষেরা খুঁজে পেতো নতুন কোনো আশ্রয়। বাবা মা এডপ্ট বেইস কনসেপ্টে আশ্রয় নাটক বানিয়ে বেশ প্রশংসিত হয়েছে নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ।

এই নাটকে বাবার চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছে মোশারফ করিম, নুসরাত ইমরোজ তিশা অভিনয়ে আবারো প্রমান করেছে নিজেকে। পরিবার নিয়ে একসাথে বসে নাটকটি দেখার মতো। নাটক শেষে আছে নির্মাতার একটি ম্যাসেজ, যে ম্যাসেজটি বর্তমানে প্রতিটা পরিবারে খুব বেশি দরকার। আরো অভিনয়ে আছেন তাহাসান, জাকিয়া বারি মম, নুসরাত ইমরোজ তিশা, আরিয়া অরিত্রী।

এছাড়াও মাবরুর রশিদ বান্নাহ’র পরিচালিত আঙ্গুলে আঙ্গুল, লেডি কিলার নাটকেও দর্শকের কাছ থেকে ভালো রেসপন্স এসেছে।




৪.২২ শে এপ্রিল


একটা নিদিষ্ট দিনে, একই সময়ে মিলিত হয়েছে একসাথে কয়েকটি গল্প। এখানে কারো সংসার আছে , টান আছে, টানাপোড়েন আছে সেইসব গল্প। বাবা মেয়ের গল্প, পরিবারের গল্প, অভিমানী ভালবাসার গল্প, প্রতিবাদী নারীর গল্প। টেলি ছবি ঘোষণা হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল , একে তো ট্রাজেডি নিয়ে গল্প, তাও আবার একাধিক তারকাদের মেলা।


এই ধরনের গল্প বাইরের দেশের সিনেমায় দেখা। এই গল্পের পরিনিতি কি থাকে তা আমাদের জানা। এই ধরনের গল্পকে দর্শকের কাছে গল্পের নির্মাতাই নিপুণ ভাবে তোলে ধরেন। এই টেলি ছবিতে কয়েকটি গল্পের মধ্যে, বাবা মেয়ের গল্পে অপুর্ব দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা অপুর্ব জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে এসেছিল ঘটনাস্থলে, কিনেছিল আদুরে মেয়ের জন্য পুতুল। গ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সংলাপে এই গল্পটি ফুটে উঠেছে অসাধারণ ভাবে।


ইরেশ জাকিরের অভিনয় এই গল্পের প্রধান শক্তি। বাবা হারানো ইরেশ জাকিরের অসুস্থ মা ও বোনকে নিয়ে ৩ জনের সংসার। আগুন লাগার পর বোনের সাথে ভাইয়ের সংলাপে দর্শকের চোখে পানি এনে দিবে। বোনের চরিত্রে নবীন অভিনেত্রী মম অসাধারণ অভিনয় করেছেন।


এর বাইরে ডিভোর্সি ও প্রতিবাদী নারীর চরিত্রে নাবিলার অভিনয় সাবলীল লেগেছে। এই ৩ গল্পের বাইরে মেহজাবিন আর তামিম মৃধার অভিনয়, মনোজ আর তিশার অভিনয় যথেষ্ট ভালোই ছিল। বসের চরিত্রে শহীদুজ্জামান সেলিম, তার স্রীর চরিত্রে দীপা খন্দকারের উপস্থিতির অংশ অল্প। শেষ দৃশ্যতে চমক দেখিয়েছে আফনান নিশোর অতিথি চরিত্রে।


পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ানের নির্মাণ কলাকৌশল ভাল। ভালো গল্প নির্বাচন, ভালো উপস্হান, ভালো অভিনয়, ক্লাইমেক্স তার কাজে দেখা যায়। এই টেলি ছবিতে ছোট পর্দার নির্মাতার কাছ থেকে যে কাজটি বের হয়েছে তার জন্যে ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

এছাড়াও আরিয়ানের আরো কয়েকটি নাটক জনপ্রিয় হয়েছিল প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধে সাতটা, কেস ৩০৪০, তুমি আমারই। 




৫. আমাদের সমাজবিজ্ঞান

আমাদের জীবনের গতিটা ছোট হয়ে আসছে। পড়াশোনা এবং চাকুরী এর বাইরে কি চিন্তা করার কিছু আছে?

শাফায়েত মনসুর রানা এই সমাজের গল্প বলেছে, গল্প বলেছে আমার আপনার। গোছালো চিত্রনাট্য তোলে এনেছে দেশের ঘটে যাওয়া ইস্যু। ছেলেধরা, ধর্ষণ, ডেঙ্গু ইত্যাদি। ইয়াশ রোহান স্ক্রিনে যতোখন ছিল মুগ্ধ করেছে। নাটক দেখতে দেখতে কখন যে ভাবতে শুরু করবেন আরে এটা আমারই গল্প। আর এখানেই পরিচালকের সাফল্য। অভিনয়ে আছেন ইয়াশ রোহান, ফখরুল বাশার, মিলি বাশার, তারিক আনাম খান, তানজিকা আমিন, তানিয়া আহমেদ সহ আরও অনেকে। 

৬. গেম ওভার

ঢাকা শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের এক বাবা ঘটনা জুয়া চক্রে জড়িয়ে পড়েন। এই ভয়ানক ফাঁদে পড়ে পরিবারটি শেষ হতে বসে। এমনিই এক পরিবারের ক্রাইসিস থেকে সঞ্জয় সমাদ্দার নির্মাণ করেন থ্রিলার জনরার নাটক ‘গেম ওভার’। চিত্রনাট্য, প্রেজেন্টেশন, দারুন মেকিং নাটকটি বেশ লেগেছে। এই নাটকে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব শেষে গল্পটা জমিয়ে দেয়। পাশাপাশি মেহজাবিন চৌধুরি সাংবাদিক চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলে চেনা ছন্দে। 

৭. লাইফ অফ জলিল

সাফা কবির সম্পর্ক করে মিথ্যা বলে নিশোর কাছ থেকে টাকা নেয়।

সেই টাকা দিয়ে অন্য একটা ছেলের জন্য বাইক কিনে। সাফা একটা পতারনা গল্পের ফাঁদপাতে। অনেক বছর পর বিয়ে করে সাফাকে শুরু হয় আরেক গল্প। ভালবাসা নাকি প্রতিশোধের?

ভিকি জাহিদ মানেই শেষটা ধাক্কা খাওয়ার। জলিলও খেয়েছে সেই ধাক্কাটি, আর জলিলের সাথে সাথে ধাক্কা খাবেন আপনিও। আফরান নিশো ও সাফা কবিরের দারুন অভিনয় মুগ্ধ করেছে।

 

৮. স্বপ্ন দেখি আবারো

পৃথিবীতে মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে। সুন্দর জীবনের স্বপ্ন। পরিবার ভালো করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। স্বপ্ন কি সবসময় সত্যি হয়?

নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে শ্যামল মাওলা ড্রাইবারের কাজ করে দেশে মা বোনকে টাকা পাঠায়। অন্যদিকে মেহজাবিন মানুষের বাসায় কাজের মেয়ে। দুজনেরই স্বপ্ন আছে, কখনো একই সুতোই বাধা।

মাহমুদুর রহমান হিমি’র  যতো নাটক দেখেছি সবচেয়ে ভালো লেগেছে ‘স্বপ্ন দেখি আবারো’। শ্যামল মাওলা, মেহজাবিন চৌধুরি অভিনয় বেশ নজরকারা ছিল। 

৯. শিশিরবিন্দু

পাশাপাশি বিল্ডিয়ে থাকে শিশির আর বিন্দু। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে শিশির। কিন্তু ভালবাসার মাঝখানে দেয়াল বিন্দুর বড়। শিশির টপকাবে কি করে?

শেষটা সিনেমাটিক। রোমান্টিক গল্প নিয়ে মুহাম্মদ মুস্তফা কামাল রাজ দুই খন্ডের নাটক বানিয়েছিল। শিশিরবিন্দু। চিত্রনাট্য লিখেন অবয়ব সিদ্দিকী। নাটকে কিছু চমৎকার সংলাপ,রোমান্টিক  সিকোয়েন্সে বেশ ভালো ছিল। তিশার ভাইয়ের শতাব্দী ওয়াদুদের দারুন অভিনয়। পাশাপাশি অপূর্ব, তানজিন তিশা গল্পটা ফুটিয়ে তোলেছে অভিনয় দিয়ে।  যা দর্শক  গ্রহন করতে এবং প্রংশিত করতে ভুল করেনি।

১০. এক্স গার্লফ্রেন্ড, এক্সবয়ফ্রেন্ড

অনলাইনে নাটক দুটি রিলিজের পরে বেশ সাড়া ফেলে। কাজল আরেফিন অমি’র হাস্যরসে দারুন মেকিং এবং আফরান নিশো, তানজিন তিশার ভালো অভিনয়। যা দর্শক ভালোভাবেই গ্রহন করেছে, ভিউয়ার ছাড়িয়েছে কোটিতে। 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *